উখিয়ায় বনভূমি জবর দখল

0

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া (কক্সবাজার) : উখিয়া সদর বনরেঞ্জের আওতাধীন সদর বনবিটের প্রায় ৩ হাজার ৪শ’ ৪২ একর বনভূমি কাগজে কলমে বিদ্যমান থাকলেও বাস্তবে তা নেই।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, প্রায় ৩ হাজার একর বনভূমি জবর দখল হয়ে গেছে। প্রতিদিন বনভূমি দখল করে তৈরি করা হচ্ছে কাঁচা, পাকা, সেমিপাকা মাটিরঘর, বহুতল ভবনসহ টিনশেড মার্কেট। বনভূমি সংরক্ষণে দায়িত্বে নিয়োজিত বনকর্মীরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে চলার কারণে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সরকারি বনভূমির জায়গা। সদর বনবিটের রক্ষিত ও সংরক্ষিত বনভূমি সরকারের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার কারণে সামাজিক বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্বীকার করেছে বনবিটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
সম্প্রতি উখিয়া বনরেঞ্জের সদর বনবিটের কয়েকটি এলাকাঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বনভূমি দখল করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট নির্মাণের নেপথ্যে বনকর্মী, ভিলেজার ও হেডম্যান জড়িত রয়েছে। তা না হলে বনকর্তা ব্যক্তিদের নাকের ডগায় পাকা স্থাপনা তৈরি করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।
সদর বনবিটের টিএন্ডটি এলাকায় ২০০৮-০৯ সালের ৭ হেক্টর আগর বাগান ৫ হেক্টর করে ১০ হেক্টর স্বল্প মেয়াদি বনবাগান ঘুরে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক অবৈধ বসতবাড়ি তৈরি করা হয়েছে।
উপকারভোগী নুর মোহাম্মদ সিকদার জানান, ১৭ হেক্টর সামাজিক বনায়ন সংরক্ষণ করার জন্য ৫২ জন উপকারভোগী নিয়োগ দিয়ে ২০১২ সালে ওইসব উপকারভোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলিল হস্তান্তর করেছেন তৎকালীন বনরেঞ্জ কর্মকর্তা বর্তমান ইনানী বনরেঞ্জে দায়িত্বরত রেঞ্জ অফিসার ইব্রাহিম হোসেন ও বনবিট কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক। ওই সময়ে বনভূমি জবর দখল, পাহাড় কাটা ও সামাজিক বনায়নের গাছ লুটপাটের অভিযোগে ওই ২ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
দলিল প্রাপ্ত উপকারভোগী শাহজাহান সিকদার জানান, একই কর্মস্থলে দায়িত্বশীল বনকর্মীদের দায়িত্বপালনে অবহেলার কারণে ১৭ হেক্টর বনবাগানে ৭৫ শতাংশ মূল্যবান গাছ থাকলেও উপকারভোগীদের বনবাগান বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণে এসব মূল্যবান গাছপালা যেকোন সময়ে লুটপাট হয়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।
দলিলপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন উপকারভোগী জানান, ইতিমধ্যে স্বল্প মেয়াদী সামাজিক বনায়নের একটি জায়গায় বিক্রি হয়েছে ৪ লক্ষ টাকায়। ওষুধ কোম্পানীর একজন বিক্রয় প্রতিনিধি ওই জায়গার উপর একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছে বলে বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান স্বীকার করে বলেন, জনৈক সুলতান ড্রাইভার ওই জায়গাটি বিক্রি করেছে সপ্তাহকাল আগে। উখিয়া সদর বিটে মোট বনভূমির আয়তন ও জবর দখলের পরিমাণ জানতে চাওয়া হলে ওই বনবিট কর্মকর্তা জানান, সদর বনবিটের সম্পূর্ণ জায়গা জবর দখলে চলে গেছে।
এব্যাপারে বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বাস্তবায়নাধীন বা দলিল প্রাপ্ত উপকারভোগীদের নিয়ে তাদের বাগান বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বস্ত করলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বসে নেই জবরদখলকারী চক্র। তারা রাতে আধারে পূর্ব নির্ধারিত সামাজিক বনায়ন দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠার কারণে বনকর্মীদের পিছুটান পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে উপকারভোগীদের অভিযোগ। এব্যাপারে বিভাগী বনকর্মকর্তা মোঃ আলী কবির বরাবরে উপকারভোগীরা একটি লিখিত অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.