ফুলকপি চাষ

0

কৃষি সংবাদ : এখন শীতের সময় এসে গেছে। শীতের ফসল দেখা যাচ্ছে বাজারে। তেমনি একটি শীতের সবজি হচ্ছে ফুলকপি। আসুন এইবার ফুলকপি চাষের সম্পর্কে কিছু জেনে নেওয়া যাক। ফুলকপি চাষে জলবায়ুর তথা তাপমাত্রার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে । ফুলকপির তাপমাত্রা ১৭ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস সবচেয়ে উপযোগী । বয়স্ক গাছ অপেক্ষা চারার তাপ গ্রহণ করার ক্ষমতা একটু বেশি । গাছের দৈহিক বৃদ্ধি থেকে বীজ ফুল আসা পর্যন্ত তাপমাত্রার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ।

জমি তৈরিঃ
যে জমিতে ফুলকপি উৎপাদন হবে, সে জমি ভালো করে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে । জমি বানানোর সময় আয়তন অনুযায়ী গোবর সার, কম্পোস্ট, খৈল ও ছাই ইত্যাদি সারের অর্ধেক পরিমাণ জমি কর্ষণের সময় মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে । মাটির আঁশ প্রক্রিয়া ফুলকপির জন্য ভালো। ফুলকপি চাষের জন্য আদর্শ মাটি হচ্ছে দোঁআশ । সাধারণ মাটিতে জৈব পদার্থ ব্যবহার করে বেলে দোঁআশ ও পলি দোঁআশ করে নিতে পারেন ফুলকপি চাষের জন্য । তবে একটি কথা সব সময় খেয়াল রাখা দরকার, স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনে নিন মূল তথ্য ।

উৎপাদনঃ
শীতকালীন ফুলকপি চাষের বীজ তোলার আদর্শ সময় হচ্ছে আগস্টের প্রথম থেকে নভেম্বরের শেষ । বর্ষাকালীন, মানে আগাম ফুলকপি চাষ শেষ হওয়ার আগে চারা উৎপাদন করতে হবে । বীজ বপন করার তিন-চারদিনের মধ্যে চারা অঙ্কুরিত হয় । প্রায় এক সপ্তাহ পর দ্বিতীয় বীজতলায় স্থানান্তরিত করে ৪-৫ সেন্টিমিটার দূরত্ব বজায় রেখে রোপণ করতে হবে । এ চারা একমাস বয়স হলে নির্দিষ্ট স্থানে রোপণ করার উপযুক্ত হয়। চারা রোপণের দূরত্ব ৬০ী৪০ সেন্টিমিটার রাখতে হবে ।

সার ব্যবহার প্রতি হেক্টরেঃ
সুষম কম্পোস্ট গুঁড়া সার ৪০০ থেকে ৬০০ কেজি অথবা গোবর ৪ থেকে ৬ টন, ইউরিয়া ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি, টিএসপি ১৫০ থেকে ২০০ কেজি, এমপি ১৫০ থেকে ২৫০ কেজি, জিপসাম ৬০ থেকে ৮০ কেজি, ডলোচুন ৩০০ থেকে ৬০০ কেজি, বোরিক এসিড ৮ থেকে ১০ কেজি, এনোনিয়াস মলিবডেট ৫০০ থেকে ৮০০ কেজি, দস্তা সার (৩৬ শতাংশ)Ñ ৪ থেকে ৭ কেজি ।

চারা রোপণঃ
৬ থেকে ৭টি পাতা থাকে এমন চারা রোপণ করতে হয় । আগাম ফসলের জন্য ৬০ সেন্টিমিটার পরপর সারিতে ৪০ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে মধ্য ফসলের জন্য । চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হচ্ছে বিকাল ।

সেচ প্রদান ও পরিচর্যাঃ
চারা রোপণের পর গোড়ায় ঝাঁঝরি দিয়ে পানি সেচ দেয়া দরকার । পরদিন সকালে কলাগাছের খোল বা কচুরিপানা প্রভৃতি দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে । এ ছায়া বিকালে সরিয়ে ফেলতে হবে, যাতে চারায় রাতে শিশির পড়ার সুযোগ পায় । তিন থেকে চার দিন এ ব্যবস্থায় চারায় সেচ দিতে হয় সকাল-বিকাল। মাটির শক্তি বাড়লে গাছের সারির মধ্যবর্তী স্থানের গাছের গোড়ার মাটি হালকা ভেলি করে দিতে হয়। চারা রোপণের দুই মাসের মধ্যে গাছে ফুল দেখা যায় এবং এর ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে ফুলকপি খাওয়ার উপযুক্ত হয় ।

রোগ দমনঃ
ফুলকপি রোগের মধ্যে ঢলে পড়া এবং মূলের গিট রোগ উল্লেখযোগ্য। এর আক্রমণে রোদের সময় গাছ ঢলে পড়ে । শিকড় ফুলে স্থানে স্থানে মোটা হয়ে যায় । প্রতি ৫০ গ্যালন পানির সঙ্গে ২৩০ গ্রাম পরিমাণে ক্যালোমেল মিশিয়ে গাছে ছিটানো দরকার । মূল গিট রোগ এক প্রকার নেমাটোড দ্বারা সৃষ্টি । এতে মূলে গিট দেখা দেয়। এর আক্রমণে ইমিলিন ড্রাই ব্রোমাইড দ্বারা মাঠে ফিউমিগেশন করা প্রয়োজন । মাটিতে চুন প্রয়োগেও উপকার পাওয়া যায় ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.