মোঃ সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি : রাঙামাটি সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত: ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদও রয়েছেন।
সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সভাপতি বাপ্পা ও সাধারন সম্পাদক রিয়াদের অনুসারিদের উপর হামলা চালায়। এসময় সভাপতি বাপ্পার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রব, রাফিউল ইসলাম শিমুল, হাসান মুরাদ এবং দীপংকর দেসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী চাপাতি ও লাঠিসোঠা নিয়ে কলেজ সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদের অনুসারি শাওনকে মারধর করে। এসময় স্থানীয়রা শাওনকে বাঁচাতে গেলে বনি মাহমুদ নামের এক স্থানীয় যুবকও আহত হয়। পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে সভাপতি বাপ্পার নেতৃত্বে রিয়াদসহ তার সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এতে রিয়াদ,শিমুল দাশ,পারভেজ আহত হয়।
আহত ছাত্রলীগ কর্মীদের রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিয়াদের চোখে গুরুতর আঘাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ অভিযোগ করেছেন, হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাপ্পা। বিনা উস্কানীতেই এই হামলা চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, সভাপতি বাপ্পা চাপাতি হাতে হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন সংঘর্ষ চলাকালে বহিরাগতদের কলেজ ক্যাম্পাসে পাঠিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বাপ্পা জানিয়েছেন, তিনি ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে ছিলেন না। কলেজে কিছু বহিরাগত আমাদের কর্মীদের প্রায় সময়ই কটুক্তি করে তাই সাধারন শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিহত করেছে। আমি কিছু জানিনা।
রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক প্রকাশ চাকমা জানিয়েছেন, আগের ঘটনার তদন্তে কমিটি আমাদের প্রতিবেদন দিয়েছে, আমরা ব্যবস্থা নেয়ার আগেই তারা আবার সংঘাতে জড়িয়ে শৃংখলা ভঙ্গ করেছে। এবার আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিবো। এরকম ঘটনা অনাকাংখিত।
রাঙামাটি কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাঙামাটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের অনুসারিদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২০ অক্টোবর তারিখও কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সময়ও বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়। ওই ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি হলেও সেই কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও এখনো দায়ি দুইপক্ষের কারো বিরুদ্ধেই কোন সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
