সিটিনিউজবিডি : বিএনপি চেয়ারপারসনের নামে ২৯টি মামলা দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে গাইবান্ধায় গোবিন্দঞ্জ উপজেলায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষদের পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দলটির যুগ্মমহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছা সেবকদল এ সমাবেশের আয়োজন করে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, দলটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারি হেলালসহ দলীয় নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
‘দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন আর ক্ষমতায় টিকে থাকা আওয়ামী লীগের দর্শন’ মন্তব্য করে সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দুর্নীতির কারণে অতীতে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। ৭৪ সালের পর এ দেশে দুর্ভিক্ষ হয়নি। তাদের লুটপাটের কারণে মাওলানা ভাসানী সাহেব এ দলের নাম দিয়েছিলেন নিখিল বাংলা লুটপাট সমিতি। এখন তারা ক্ষমতা দখল করে লুটপাট করছে। টাকা বিদেশে পাচার করছে। এই হলো আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র ও সুশাসনের নমুনা।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অসভ্য মানুষের অপশাসনে দেশটা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এ অরণ্য থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের নামে ২৯টি মামলা দেওয়া হয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের সময়ে রাজনীতিকে বিরাজনীতি করার কারণে শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার নামে মামলা দেওয়া হয়। পরে শেখ হাসিনার মামলা প্রত্যাহার করা হলেও বেগম জিয়ার মামলা চলছে। সে মামলা অতি দ্রুত শেষ করে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।’
গণতন্ত্র ছাড়া টেকসই উন্নয়ন হয় না দাবি করে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তাদের থিওরিতে শুধু যারা করে আওয়ামী লীগ তাদের উন্নয়ন হবে, আর যারা আওয়ামী লীগ করবে না তাদের উন্নয়ন হবে না।’
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা অসভ্য মানুষদের শাসনে বসবাস করছি, যারা দেশকে জঙ্গলে পরিণত করেছে। আমাদের এই জঙ্গল থেকে বের হয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক শ্লোগান নয়। দাবি ও ইস্যুতে শ্লোগান দিতে হবে। মনের ভেতরে আগুন ও ক্ষোভ তৈরি করতে হবে। আর সেই ক্ষোভে বর্তমান শাসকদলকে পরাজিত করতে হবে।’
সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ বর্তমান সরকারের চরিত্র হলো গ্রামের মোড়লদের মতো। কোনো জনপ্রিয়তা নেই। এদের কাজ হলো একজনকে অন্যজনের সঙ্গে লাগিয়ে দিয়ে মামলা করা। এরপর সেখান থেকে টাকা খাওয়া।’
আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, উপাসনালয় সবকিছু দখল করতে চায়। পাবনার সাঁথিয়া, নাসিরনগর, ময়মনসিংহসহ সারাদেশে আ.লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান, স্থানীয় এমপি ও নেতাকর্মীরা উস্কানি দিয়ে এসব হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। কিন্তু এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে বিএনপিকে।’
‘আমি বলতে চাই এসব বিএনপি করছে না। আপনাদের দলের মধ্যে থেকেই এগুলো করা হচ্ছে। নাসিরনগরে আপনাদের দলের তিন জনকে বহিষ্কার করেছেন, এটাই তার প্রমাণ’, বলেন রিজভী।
