সিটিনিউজবিডি : সিডর তাণ্ডবের ভয়াল ১৫ নভেম্বর আজ। ২০০৭ সালের ওই রাতে
জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চল লন্ড-ভন্ড করে দিয়েছিল। ৯ বছর পরে প্রকৃতির সেই রুদ্র রোশের ভয়ালচিত্র স্মরণ করে গোটা উপকূলবাসী এখনো আঁতকে ওঠেন।
সিডর তান্ডবে উপকূলসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৩০টি জেলা কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ১৭টি জেলার ২শত উপজেলার প্রায় ১ হাজার ৭শ ইউনিয়ন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি হিসেবেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ৭৩ হাজার। কিন্তু বাস্তবে তা ছিল ২০ লক্ষাধিক। আর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যাও ছিল প্রায় ১ কোটি।
সিডরের কালো থাবায় সেই রাতে সরকারীভাবে মৃতের সংখ্যা ৩,১৯৯ এবং নিঁখোজ ১,৭২৬ জন বলা হলেও বাস্তবে তা ছিল অনেক বেশি। বেশিরভাগ নিখোঁজদের আজও কোন সন্ধান না মেলায় প্রকৃতপক্ষে ৫সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানী ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেদিন বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপে সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। নিম্নচাপটি কয়েকবার গতি পরিবর্তন করে মধ্যরাতে অগ্নিমূর্তি রুপ ধারণ করে। রাতে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে।
৯ বছর পেরিয়ে গেলেও সেদিনের দুঃসহ স্মৃৃতি আজও জেগে আছে স্বজনহারাদের মাঝে। নির্মম সেই ঘটনাপ্রবাহ দুঃস্বপ্নের মত আজও তাড়া করে তাদের। আজও ভুলতে পারেনি সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি। স্বজন হারানো বেদনায় আজও তারা কাঁদে। সরকারি ভাবে দিনটিকে স্মরণ করা না হলেও স্বজন হারা মানুষেরা মিলাদ মাহফিল, দোয়া মোনাজাত কোরআনখানি ও নানাবিধ পারিবারিক আয়োজনে দিনটিকে স্মরণ করছে আজ।
সিডরের রুদ্র রোষে সেদিন সম্পদহানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। সিডরের তান্ডবে বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ঝালকাঠী ও বাগেরহাট জেলার প্রায় হাজার কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক বেড়ীবাঁধই মাটিতে মিশে গিয়েছিল। প্রায় পৌনে ৭ শ কিলোমিটার আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কসহ পল্ল¬ী যোগাযোগ অবকাঠামো সম্পূর্ণ এবং প্রায় ৯০ হাজার কিলোমিটার সড়ক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিধ্বস্ত এলাকার প্রায় ১৮শ সরকারীÑবেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ও প্রায় সাড় ৬ হাজার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেতু ও কলাভার্টের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও ছিল উদ্বেগজনক। বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের ১,৬৫৪টি সেতু এবং কালভার্ট সম্পূর্ণ ও প্রায় ৯০০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সিডরের রাতে উপকূলসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল জনপদের প্রায় ৪লাখ ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল। আরো প্রায় ১০ লাখ ঘর-বাড়ী আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সাথে প্রায় ২লাখ হেক্টর জমির আমন ফসল সম্পূর্ণ ও আরো ৫লাখ হেক্টরের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ৫০ লাখ গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর মৃত্যু ঘটে সিডরের কালো রাত্রির তান্ডবে।
