জুবায়ের সিদ্দিকী : পুলিশের একজন চৌকষ ও সৎ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার এখন পুলিশে নেই। নীরবেই সময় অতিবাহিত করছেন সাবেক এসপি বাবুল আাক্তার। স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর থেকে তিনি ঢাকায় খিলগাঁওয়ে শ্বশুরবাড়ীতেই রয়েছেন। কাউকে কিছু বলছেন না। প্রয়োজন ছাড়া কারও সাথে সাক্ষাৎও করছেন না। প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে বিকালে ফিরছেন। নিয়মিত নামাজ আদায় ও সন্তানদের সময় দিচ্ছেন।
বাবুল আক্তার সম্পর্কে তার শ্বশুর পরিবার বলছে, বাবুল আগেও কম কথা বলতেন, এখনও কম কথা বলেন। সন্তান ২জনকে স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। নানার সাথেই তাদের স্কুলে যাওয়া-আসা। বাবুল ইতিমধ্যে ২ সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে গিয়েছিলেন। বাবুলের দুই অবুঝ শিশু মাহির ও টাপুর প্রায় সময়ই মাকে খুঁজে ফিরে। ঘর তন্ন তন্ন করে দুজন ভাইবোন মাকে না পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
একটি অসমর্থিত সূত্র মতে, বাবুল আক্তার একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরী করছেন। পুলিশের সাবেক এই এসপি বাবুল আক্তার চট্টগ্রামবাসীর মন জয় করেছিলেন তার সাহস, মেধা ও সততার গুণে। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল। একটি সাজানো গোছানো পরিবার ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেল। মিতু হত্যার মামলাটিও যেন ধীরগতিতে চলছে। মানুষের ভালবাসা, আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক বাবুল আক্তারকে ঘিরে অনেকে গাঁজাখুরী ও অবাস্তব কাহিনীও প্রচার করেছেন। তবে মানুষের মন থেকে বাবুল আক্তারের প্রশংসনীয় কর্মদক্ষতা মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। অবুঝ মা হারা এই দুটি সন্তানকে আকড়ে ধরে বাবুল আক্তার দিন অতিবাহিত করছেন। স্কুলের কোন অনুষ্ঠানে অভিভাবকরা একত্রিত হলে টাপুর তার নানাকে বলে উঠে, ‘‘আম্মুকে ফোন কর’’। আম্মুর প্রতীক্ষায় এখনও মাহির ও টাপুর।
উল্লেখ্য, পুলিশের চাকরী থেকে ৬ সেপ্টেম্বর বাবুলকে অব্যহতি দেওয়া হয়।
