খতিবে বাঙাল আল্লামা জালালুদ্দিন আলকাদেরী (রহ)

0

মহান দিশারীকে হারিয়ে আজ কাঁদছে সুন্নি জনতা
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

সংগঠক-লেখক এম সেলিম খান চাটগামী ২৬ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় আমার কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলেন অধ্যক্ষ আল্লামা জালালুদ্দিন আলকাদেরী হুজুর কী ইন্তেকাল করেছেন? আমি বিস্মিত কণ্ঠে তাঁকে বলি, কেন কী হয়েছে! আমি তো কোনো খবর পাইনি। তখনই ফোন করলাম পীরে তরিকত মাওলানা গোলামুর রহমান আশরফ শাহকে। তিনি নিশ্চিত হয়ে জানালেন, না-হুজুর ইন্তেকাল করেন নি। তবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে আইসিউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরই মধ্যে দেশে বিদেশে সুন্নি উলামা- ছাত্র-জনতার মাঝে কী অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেল হুজুরের সর্বশেষ অবস্থা জানতে। ওই দিন রাতে আমি আজাদী অফিসে কর্মরত ছিলাম।

একের পর এক ফোন আসছে। ব্যাকুল হয়ে সবাই জানতে চায় হুজুরের খবর। রাত ১০টা ২০ মিনিটে দৈনিক আজাদীর সহ সম্পাদক কাশেম শাহসহ আরো বেশ কয়েকজন ঢাকা থেকে খবর নিয়ে নিশ্চিতভাবে বললেন হুজুর আর বেঁচে নেই। শুধু দেশবাসীকে নয়, সমগ্র বিশ্বের সুন্নি জনতাকে অসীম শোক সাগরে ভাসিয়ে আমাদের প্রাণপ্রিয় হুজুর খতিবে বাঙাল সত্যি সত্যি না ফেরার দেশে চলে গেলেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। জন্মিলে একদিন ইন্তেকাল করতে হবে এটি চিরন্তন সত্য কথা। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু এমন যে, এর কোনো সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়া যায় না। অধ্যক্ষ আল্লামা জালালুদ্দিন আলকাদেরীর হঠাৎ করে দুনিয়া থেকে প্রস্থান ঠিক তেমনই বিষাদময় ঘটনা।

সারা দেশের মানুষ একজন বড় মাপের আলেমে দ্বীন হিসেবে তাঁকে ভালোভাবে জানেন ও চিনেন। এমনকি দেশের গন্ডি পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ-আমেরিকার বহু দেশে তাঁর বিপুলসংখ্যক ভক্ত অনুরক্ত রয়েছে। এই তো মাস দেড়েক আগে মহররম মাসে শাহাদাতে কারবালা মাহফিল শুরু হবার দুই তিন দিন আগে আমেরিকা সফর করে এসেছিলেন হুজুর কেবলা (রহ)। বিশ্বের যেখানেই তিনি গিয়েছেন, যেখানেই তিনি একবার ওয়াজ-বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছেন-সেখানে তাঁকে ঘিরে বিশাল একটি ভক্তগোষ্ঠী তৈরি হয়।

আলেমদের মধ্যে বক্তা-ইসলামী চিন্তাবিদ ও ধর্মতত্ত্ববিদের খুব একটা অভাব নেই। কিন্তু খতিবে বাঙাল খ্যাত অধ্যক্ষ আল্লামা জালালুদ্দিন আলকাদেরীর মতো সর্বজননন্দিত প্রশংসাধন্য বক্তা কয়জনই বা আছেন। মাহফিলে-সম্মেলনে- সেমিনারে তাঁর হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পিনপতন নীরবতায় শুনতেন শ্রোতারা। কোনো বিষয়কে সুস্পষ্টভাবে বোঝাতে পারাই একজন বক্তার আসল গুণ হিসেবে বিবেচ্য। সেই দিক থেকে শতভাগ সফল ছিলেন আল্লামা জালালুদ্দিন আলকাদেরী (রহ:)। তাঁকে বড় অসময়ে হারিয়ে সুন্নি উলামা-ছাত্র-জনতা আজ বাকরুদ্ধ ও শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। তাঁর রেখে যাওয়া হাজার হাজার ছাত্র-শিষ্য-ভক্ত আজ তাঁর জন্য হাহাকার করে বেদনার অশ্রু ফেলছে। সত্যিই হাসি খুশি মাখা প্রাণোচ্ছল এই কিংবদন্তিতুল্য আলেমকে আর আমাদের মাঝে দেখা যাবে না তা মনে আসতেই মন মোচড় দিয়ে ওঠে।

বেদনা ও বিরহের যাতনায় দুই চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রুধারা। শোক যন্ত্রণায় সুন্নি উলামা- ছাত্র-জনতা আজ দিশেহারা। পাগলপারা। মাথার ওপর ছায়াস্বরূপ থাকা বটবৃক্ষসম এই অসাধারণ কীর্তিমান আলেমের শূন্যতা যে কখনো পূরণ হবার নয়! ৩২ বছর ধরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ জমিয়তুল ফালাহর খতিবের দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করেছেন তিনি। সর্বমহলে ছিল তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা। সব মত পথের মানুষের ভালোবাসায় তিনি ধন্য। ইসলাম বিকৃতকারী বাতিল অপশক্তির বিরুদ্ধে তিনি আজীবন ছিলেন সোচ্চার।

মুষ্টিমেয় বাতিলরা ছাড়া তিনি সকলের কাছ থেকে সম্মান ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। ইন্তেকালের দুইদিন আগে ২৪নভেম্বর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আ’লা হযরত ফাউন্ডেশন আয়োজিত সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে তাৎপর্যপূর্ণ ও দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট কর্তৃক প্রকাশিত ঐতিহ্যবাহী জনধন্য পত্রিকা মাসিক তরজুমানে আহলে সুন্নাতের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন ইন্তেকালের আগ মুহূর্তেও। কয়েক বছর আগে তিনি বর্তমান সরকার কর্তৃক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর মনোনীত হন।

১৯৮৮ সনের অক্টোবর মাসে চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত ওলামা মাশায়েখ ও সুুন্নি জনতার মহাসমাবেশে তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বাংলাদেশ এর মহাসচিব নির্বাচিত হন। আর এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক মনীষী শাহ্ সুফী মাওলানা সৈয়দ মইন উদ্দীন আহমদ আল হাসানী (রাহ.)। সুন্নীয়ত ও তরিকতভিত্তিক আরো বহু সংস্থা-সংগঠনের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। বাস্তবেই তিনি ছিলেন সুন্নী জনতার মহান রাহবার তথা দিশারী।

চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি মহররম মাসে আহলে বায়তে রাসূল (দ.) স্মরণে ১০ দিনব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের আয়োজন করে আসছিলেন। এবারও যথারীতি শানদারভাবে ব্যাপক আয়োজনে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার মাহফিল শুরু হবার একদিন আগে হঠাৎ হুজুর কেবলা (রহ) দৈনিক আজাদী অফিসে এলেন। ডেকে পাঠালেন আজাদীর সহ-সম্পাদক কাশেম শাহ ভাইকে। আমাকেও তখন হুজুর কেবলা (রহ.) সম্ভবত খুঁজছিলেন। আমি হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের ‘হিজরি’ স্মরণিকার কাজে তখন খুবই ব্যস্ত সময় পার করছিলাম। আজাদী অফিস থেকে নেমে হেঁটে আন্দরকিল্লায় যাচ্ছিলাম।

আজাদী অফিসের নিচে একটি প্রাইভেট গাড়িতে হুজুর বসা ছিলেন। আমাকে দেখেই হুজুর ডাক দিলেন। আমি অন্যমনস্কতার কারণে হুজুরকে খেয়াল করিনি এবং হুজুরের ডাক শুনতে পাই নি। তখন আমার পেছন থেকে দৌড়ে ছুটে আসলেন হুজুরের বিশেষ সহকারী মাওলানা মুহাম্মদ তোয়াহা। তিনি বললেন হুজুর আমাকে ডেকেছেন। আমি হুজুরের সামনে হাজির। কদমবুচি করলাম হুজুরকে। ‘বাজি তোঁয়ারা আঁর শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের খোঁজ খবর নলইতা লাই¹ু, আঁই সুদূর আমেরিকাত্তুন চলি আইস্সি মাহফিলের জন্য।

আঁর ভিসার মেয়াদ আরো অনেক দিন বাকি আছে। কিন্তু জমিয়তুল ফালাহর মাহফিলের টানে আঁই চলি আইস্ সি’- চট্টগ্রামী ভাষায় হুজুরের দরদমাখা একথা শুনে আমি বিগলিত হয়ে উঠি। এবছর আগেই মনে মনে স্থির করে রেখেছিলাম শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের নিউজ এবার করবোনা। প্রতিদিন রাতেই মাহফিল। রাতেই আমার অফিস। অফিসের দায়িত্বে বিঘœ ঘটবে তাই নিউজ করার অপারগতা প্রকাশ করলাম। কিন্তু পারলাম না। হুজুর আমাকে মৃদুভাবে শাসালেন এবং সাংবাদিক কাশেম শাহ ও প্রফেসর কামাল উদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে মাহফিলের নিউজ করার দায়িত্ব আমাকে অর্পণ করলেন। এও বললেনÑখোরশিদ তোমাকে নিউজের দায়িত্ব দিলে আমি টেনশনমুক্ত থাকি।

তুমি কি আমার টেনশন বাড়িয়ে দিতে চাও- নাকি আমাকে নিশ্চিন্তে থাকতে দেবে এখন ভেবে দেখো। হুজুরের বিশেষ আগ্রহের দিকে লক্ষ্য করে আমি ১০ দিনব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের নিউজ লেখার সম্মতি দিলে হুজুর সেদিন খুবই খুশি হন এবং আমার মাথায় স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন। ঠিক কী কারণে জানিনা, অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছরের শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে প্রচুর লোক সমাগম ঘটেছে। আশুরা দিবসে মাহফিলের শেষ দিনে দেওয়া হুজুরের বক্তব্য শ্রোতাদের হৃদয় কেড়েছে বলা যায়। কী মায়ার জাল বুনে গেছেন তিনি।

চট্টগ্রাম নানা কারণে বিখ্যাত। বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রামের আলাদা খ্যাতি ও প্রসিদ্ধি রয়েছে। ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে লাখো লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনের কারণে চট্টগ্রামের রয়েছে বিশেষ সুখ্যাতি। ঠিক তেমনিভাবে হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম মাসে আহলে বায়তে রাসূল (দ.) স্মরণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে ১০দিনব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিল বেশ সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে।

বলতে দ্বিধা নেই, দেশে মহররম মাসে লাগাতার ১০দিন ধরে শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের সূচনাকারী হলেন অধ্যক্ষ আল্লামা জালালুদ্দিন আলকাদেরী (রহ.)। সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ইসলামী-সুন্নিয়তের সংস্কৃতির প্রবর্তক হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসে বিশেষভাবে খোদিত হয়ে থাকবে। কয়েক বছর থেকে এ মাহফিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়েছে। প্রতি বছর বহু দেশ থেকে ইসলামী স্কলারগণ এ মাহফিলে আসছিলেন বক্তা হিসেবে। হুজুর কেবলার (রহ.) ডাকে সাড়া দিয়ে বরাবরই এ মাহফিল আয়োজনে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নেপথ্যে থেকেছেন পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ আরো অনেকে।

গাউসে জামান আল্লামা সৈয়দ আহমদ শাহ ছিরকোটি (রহ.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট পরিচালিত এশিয়াখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে তাঁর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন একটি বিরল ঘটনা। আল্লামা জালালুদ্দিন আলকাদেরীর (রহ.) বেলায় এই সৌভাগ্য ঘটেছে। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, ব্যক্তিত্বের আকর্ষণ ছিল অসাধারণ। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কঠোরতা-কোমলতা দুইগুণই তাঁর মাঝে দেখা গেছে। পরিশ্রমী, মুত্তাকি ও সুন্নিয়তের আদর্শে দীক্ষাবান এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বই ছিলেন তিনি। তাঁর আসনটি চিরকাল অপূরণীয়ই থেকে যাবে।

এক যুগ ধরে আজাদী পত্রিকায় সাংবাদিকতা পেশায় কর্মরত থাকার সুবাদে দেখেছি যখনই কোনো বিপদে-সমস্যায় পড়তেন অধ্যক্ষ আল্লামা জালালুদ্দিন আলকাদেরী (রহ.) ছুটে আসতেন দৈনিক আজাদী অফিসে। বছরে বহুবার তাঁকে আজাদী অফিসে দেখা যেতো। আজাদী সম্পাদক জনাব এম. এ মালেকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা সবাই জানেন। কয়েক বছর আগে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নিয়ে সরকারের সঙ্গে টানাপড়েন ও সমস্যা সৃষ্টি হলে তিনি ঘন ঘন আজাদী অফিসে এসে সম্পাদক মহোদয়ের পরামর্শ নিতেন।

নভেম্বরের (২০১৬) শুরুর দিকে জরুরি প্রয়োজনে তিনি আজাদী অফিসে সম্পাদক মহোদয়ের সাক্ষাতের জন্য এসেছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা তিনি আজাদী কনফারেন্স রুমে ছিলেন। তখন আমাকে দেখেই হুজুর বললেন, ২৯ অক্টোবর’১৬ ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে অনুষ্ঠিত শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের নিউজটি তো পত্রিকায় দেওয়া হয়নি। তোমাকেও বলার সুযোগ হয়নি।

একটি কাগজ নিয়ে তাঁর বক্তব্য নোট করতে বললে আমি বক্তব্যের কিছু পয়েন্ট লিখি। কিন্তু আমার বড় দুর্ভাগ্য, হুজুরের শেষ ইচ্ছা আমি পূরণ করতে পারিনি। নোটটি ভুলে সেদিন আজাদী অফিসে ফেলে আসায় আর নিউজ লেখা হয়ে উঠেনি। হুজুরের মুখ থেকে নিউজ লেখার আর ফরমায়েশ পাবো না এটি ভাবতেই বিষাদে মন ভারময় হয়ে ওঠে। আমার শ্রদ্ধাষ্পদ দীক্ষাগুরু খতিবে বাঙাল হুজুর কেবলাকে (রহ.) আল্লাহপাক জান্নাতে আহলে বায়তে রাসূলের (ক.) কদমের পাশে শান্তিতে রাখুন-এই কামনা।

লেখক: সাংবাদিক, কলাম লেখক: ০১৮৩০-৫৪২৩৮০

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.