সুজিত দত্ত, পটিয়া প্রতিনিধি : বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৪ জন সফল শ্রেষ্ট নারীকে আজ শুক্রবার সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। পটিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আবুল হাশেম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আতিয়া চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটিয়া পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ।
বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুল মতিন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা বেগম জলি, পটিয়া নারী জাগরণ সংস্থার সভানেত্রী পারভিন আকতার, শিকলবাহা নারী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা ফরিদা ইয়াছমিন, অধ্যাপক আবু নোমান, খলিলুর রহমান ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক ফাতেমা তৈয়ব প্রমুখ। সম্মাননা পদক প্রাপ্তরা হলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তছলিমা চৌধুরী, সফল মা শামসুন্নাহার, স্বামী হারা স্বাবলম্বী রোখসানা আকতার, স্বাবলম্বী ডেইজি আকতার।
যে কারণে তাদের পুরুস্কৃত করা হয়। তছলিমা চৌধুরী একজন জন্মান্ধ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। কিন্তু অন্ধত্ব তাকে ধমিয়ে রাখতে পারেনি। সে একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে এখন একজন স্কুল শিক্ষক। তার আরো দুই বোন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শিক্ষকতা করছেন। যার ফলে সম্প্রতি তারা জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে স্থান পেয়েছে। শামসুন্নাহারের স্বামী মারা যায় ১৯৮৪ সালে। কিন্তু তার দুই ছেলে ৪ মেয়ে সবাইকে কষ্ট করে পড়ালেখায় নিয়োজিত করার ধরুন ছেলে মেয়ে সবাই মাষ্টার্স পাশ। ছেলে অধ্যাপক আবু নোমান চট্টগ্রাম বিশ^দ্যিালয়ের শিক্ষক।
আর এক ছেলে ডাক্তার। মেয়েরা বিভিন্ন চাকরীজীবী। শামসুন্নাহার একজন শ্রেষ্ট সফল মা। রোখসানা আকতার বিয়ের পর দুটি সন্তান জন্ম নেয়। স্বামী অভিমান করে বিশ পানে মারা যায়। শশুর পক্ষ তাকে তাঁড়িয়ে দেয়। সে নিজের পায়ে নিজে দাঁড়িয়ে দুটি সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় গড়ে তুলে। রোখসানা একজন নির্যাতিন হলেও সে এখন শ্রেষ্ট সফল নারী। ডেইজি আকতার তার পরিবারে দুটি বোন ছাড়া ভাই নেয়।
অভাব অনটনের সংসারে বাবার আহার জোগানো কষ্ট ছিল। তবুও ডেইজিকে তার অধ্যবসায় ধমিয়ে রাখতে পারেনি। বিউটি পার্লার দিয়ে আয় রোজগারের পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যায়। দু’বোন এখন স্বাবলম্বী। তাদের এ কৃতিত্ব স্বরূপ উপজেলা প্রশাসন সম্মাননা পদক সহ নগদ অর্থ দিয়ে সম্মানে ভূষিত করে।
