চকরিয়া প্রতিনিধি : চকরিয়ার বদরখালী ব্রীজে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি কোন মতেই থামানো যাচ্ছেনা। কক্সবাজার জেলার অটোরিক্সা টেম্পু পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি-১৪৯১) নাম ভাঙ্গিয়ে বদরখালী ব্রিজে মাসে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি চলছে। জেলা অটোরিক্সা টেম্পু পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ছাড়াই মনগড়া কমিটি নিয়ে বদরখালী-মহেশখালী কোষ্টাল জীপ মালিক সমিতির একাংশের সম্পাদক একরামুল হক মিয়া, লাইন্সম্যান হেলাল উদ্দিন, সরওয়ার ও সহকারী লাইন্সম্যান মামুনকে দিয়ে চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন। টাকা না দিলে অটোরিক্সা ও টমটম শ্রমিকদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, দাপটু মিয়া, হেলাল সরওয়ার, মামুনসহ কয়েকজন মিলে চকরিয়ার বদরখালী ব্রিজে মহেশখালীর অটোরিক্সা ও টমটম চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে।
শাহাদাত কবির নামে এক শ্রমিক জানান, বদরখালী ব্রিজে প্রতিটি সিএনজি থেকে ২০ টাকা করে দুই দফায় ৪০ টাকা হারে দৈনিক চাঁদা আদায় করছে তারা। টাকা না দিলে সিএনজি চালকদের মারধর করা হয়। এমনকি গাড়িও আটকে রাখা হয়।
জানা গেছে, বদরখালী বাজারের উত্তর ও দক্ষিন পাশে আলাদা দু’টি পুলিশ ক্যাম্পও রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী আদায়কৃত টাকার সিংহ ভাগ বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ির পকেটে চলে যাওয়ায় তারা এসব দেখে না দেখার ভ্যান করে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চালক আসকর জানান, মহেশখালীতে প্রায় দুইশত সিএনজি অটোরিক্সা রয়েছে। এসব অটোরিক্সা বদরখালী ব্রিজ পার হলেই ২০টাকা করে দু’দফায় ৪০ টাকা দিতে হয়। সেই হিসাবে গড়ে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আদায় হয়ে থাকে।
তিনি জানান, প্রধান সড়কের ওপর চাঁদের গাড়ি, ম্যাজিক, সিএনজি, টেম্পুর অবৈধ স্টেশন থাকায় প্রতিনিয়তই জনদুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। স্কুল, কলেজের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের যাতায়াতে ভীষণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যানজট সৃষ্টির ফলে সময় মতো গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারছে না এবং প্রায়ই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। স্থানিয় চেয়ারম্যান খাইরুল বশরের সাথে মাসিক একটি চুক্তি থাকায় তিনি এব্যাপারে নিরব রয়েছে। তাদের হাতে প্রতিদিন সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের হাত থেকে শ্রমিকদের উদ্ধার করার অনুরোধ জানান শ্রমিকরা।
আব্দুল্লাহ নামের এক শ্রমিক জানান, মহেশখালীতে কয়েক’শ ব্যাটারি চালিত টমটম রয়েছে। এসব টমটম বদরখালী ব্রিজ পার হলেই প্রতিটি গাড়ি থেকে ২০টাকা করে দু;দফায় ৪০টাকা হারে চাঁদা নেয়া হয়। চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অটোরিক্সা ও টমটম চালকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জলে জানান শ্রমিকরা। তাই এসব চাঁদাবাজদের বদরখালী ব্রিজ থেকে প্রশাসনের প্রতি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী নির্যাতিত শ্রমিকদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী লাইন্সম্যান বলেন, আমরা প্রতিমাসে পুলিশ এবং বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে বদরখালী ফেরিঘাট থেকে মহেশখালীতে গাড়ি লাইনের সার্ভিস দিয়ে থাকি। স্টেশন অবৈধ হলেও কল্যাণের নামে টাকা নিলে উচ্ছেদের সুযোগ নাই। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম-মহেশখালী-কক্সবাজার কোষ্টার, জীপ মাইক্রো মালিক সমিতির একাংশের লাইন্সম্যান হেলাল উদ্দিন বলেন, জেলা কমিটি তাদের নতুন কমিটি দেওয়ায় তারা কল্যাণের টাকা আদায় করছেন। চাঁদাবাজি নয় শ্রমিকের কল্যাণে টাকা উঠানো হচ্ছে।
