খালেদা ও সন্তু লারমা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে -দীপংকর

0

মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি: বাংলাদেশে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলো বেগম খালেদা জিয়া, তার সেই ডাকা অসহযোগ আন্দোলন উদ্ধ করা হয় নি। তার অর্থ এখনো অসহযোগ আন্দোলন চলছে ঠিক তেমনি ভাবে আঞ্চলিক দল জেএসএস পার্বত্য অঞ্চলে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলো কিন্তু তাদের সেই অসহযোগ আন্দোলনের কোন রুপই দেখা যাচ্ছে না। সন্তু লারমা সরকারী অনুষ্ঠানে যাচ্ছে, সরকারি সব কিছুই ব্যবহার করছে আবার বলছে সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন করবে তারা। দেশে খালেদা জিয়া ও পার্বত্য অঞ্চলে সন্তু লারমার কোন কথা ও কাজে মিল নেই, তারা জনগণকে বিভান্ত করার চেষ্ঠা করছে বলে মন্তব্য করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার।

সেনা বাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে প্রসংশনীয় কাজ করছে সন্তু লারমার এমন মন্তব্য উপস্থাপন করে তিনি বলেন, সন্তু লারমা এক স্থানে বলছে পার্বত্য অঞ্চলে সেনা শাসন চলছে। অন্য দিকে তিনি সেনা বাহিনীর অনুষ্ঠানে বলছে সেনা বাহিনী প্রসংশনীয় কাজ করছে। তার নিজের কথা ঠিক নেই। তিনি নিজেই জানেন না তিনি কি বলছে এবং কি করছে? তার এমন কর্মকান্ডের কারণে পার্বত্য এলাকার শান্ত-সৃষ্ট মানুষরা বিভান্ত হচ্ছে।

শনিবার বিকালে রাঙামাটি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে রাঙামাটি মৎস্য শ্রমিক বহুমূখী সমবায় সমিতি লি: এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ লাভ করাই তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙামাটি জেলা শ্রমীক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শামসুল আলম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি চিং কিউ রোয়াজা, যুগ্ম সম্পাদক কে.এম জসিম উদ্দিন বাবুল, সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি জাহেদ আক্তার, জেলা মৎস্যজীবি লীগের আহ্বায়ক উদয়ন বড়–য়া, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজলসহ অন্যন্যা নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রধান ব্যবসা হচ্ছে গাছ ও বাঁশের ব্যবসা। এই ব্যবসা এখন আর উন্নত হতে পাচ্ছে না পার্বত্য অঞ্চলের অবৈধ অস্ত্রধারীদের জন্য। তাদের অস্ত্রর মুখে পরে পার্বত্য এলাকার মানুষ এখন আর শান্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছে না। ব্যবসা করতে গেলে এই অবৈধ অস্ত্রধারীদেরকে চাঁদা প্রদান করতে হচ্ছে। তাই এই ব্যবসা ও শিল্পকে বাঁচাতে হলে পার্বত্য অঞ্চল থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

মৎস্যজীবিদের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের প্রতিটি জাতির ও পেশার মানুষের জন্য কাজ করছে। যার ধারাবাহিকতায় মৎস্যজীবিদের জন্যও কাজ করছে বর্তমান সরকার। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্ভর করে আছে হাজারো মানুষ, তাই এই এলাকার জন্য সরকার বিভিন্ন কাজ করার উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এই বছর মৎস্যজীবিদেরকে বিজিএ ১৮,৯০০ কার্ড প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

১৭ ডিসেম্বর রাঙামাটি মুক্ত দিবস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১৭ ডিসেম্বর রাঙামাটি মুক্ত দিবস, এই দিনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রাঙামাটি জেলা শাখা বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করবে। তাই সকল নেতাকর্মীদেরকে সহযোগিতার মাধ্যমে অনুষ্ঠান সফল করার আহ্বান জানান তিনি।

পরে জাতীয় মৎস্য শ্রমীক লীগ রাঙামাটি জেলার সভাপতি আবুল বশর, সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইন্দ্র বিকাশ চাকমাসহ ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.