মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি : দেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের একজন বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ শুয়ে আছেন হ্রদ-পাহাড় ঘেরা রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটের ছোট্ট একটি টিলায়। যেখানে ১৯৭১সালের ২০এপ্রিল শত্রু বাহিনীর সাথে বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহিদ হয়েছিলেন তিনি। আর নিজের প্রান উৎসর্গ করে বাঁচিয়েছিলেন আশিজন সহযোদ্ধার প্রান। সেই যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শি স্বাক্ষী ছিলেন সেই সময়কার টগবগে পাহাড়ি তরুন দয়াল কৃষ্ণ চাকমা।
যুদ্ধ শেষে শহিদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফের চিহ্নভিহ্ন শরীর একত্রিত করে সমাহিত করেছিলেন তিনি। পরম মমতায় দেখাশুনাও করেছেন বছরের পর বছর। আর ১৯৯৬ সালে বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদেই এই বীরশ্রেষ্ঠের কবর চিহ্নিত করা হয়েছিল। হ্রদের অথৈ জলের মাঝখানে ছোট্ট একটি টিলার উপরেই রয়েছে তাঁর সমাধি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাঙামাটি সেক্টরের দায়িত্ব নেয়ার পর সেই সমাধির রক্ষনাবেক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন কর্নেল মোঃ আশরাফুল ইসলাম। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ এবং শহিদদের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় তিনি এই কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করবেন বলেও জানান।
সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ’র সমাধি রক্ষনাবেক্ষণের জন্য দুইজন লোক নিয়োগ দেন এবং তাদের বেতন-ভাতাদি এবং অন্যান্য সুবিধাও বৃদ্ধি করেন। বীরশ্রেষ্ঠের সমাধির সংস্কার ও মেরামত কাজ ১৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন করেন।
এছাড়াও সমাধি স্থলে সীমান্ত আর্কাইভ, রিসোর্ট, টয়লেট, ক্যাফেটেরিয়াসহ সৌন্দর্য্য বর্ধনের মাষ্টার প্ল্যান গ্রহণ করেন। শীঘ্রই রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদকে সঙ্গে নিয়ে এই কাজ শুরু হবে বলেও জানান।
আর এই কাজ সম্পন্ন হলে এটি পর্যটকদের বিনোদনের অন্যতম স্পট হিসেবেও গড়ে উঠবে।
১৬ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ’র সমাধিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা জানান কর্নেল মোঃ আশরাফুল ইসলাম। এসময় লেঃ কর্নেল আশরাফুর রাহাত সিদ্দিকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
