রাঙামাটিতে ১৬ ডিসেম্বরে প্রাণহীন ডিসপ্লে, হতাশার ছায়া

0

মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি : ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চ বাংলার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের জন্য তা বাঙালির হৃদয়ে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়েছে। এই দিনগুলোতে সারা দেশে জেলা পর্যায়ে এবং উপজেলা পর্যায়েও কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লের আয়োজন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় রাঙামাটির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণে চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে। তবে বিগত কয়েক বছর থেকে দেখা যাচ্ছে, কুচকাওয়াজে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করলেও ডিসপ্লেতে কমে যাচ্ছে অংশগ্রহণ। এছাড়া মাদ্রাসাগুলো ডিসপ্লেতে অংশগ্রহণ করে বললেই চলে।

যার প্রমাণ মিলেছে এইবার ১৬ ডিসেম্বর ডিসপ্লেতে। কুচকাওয়াজে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করলেও শুধু মাত্র তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে ডিসপ্লেতে। বিগত সময়ে বিভিন্ন বিভাগে ১ম, ২য়, ৩য় হওয়ার জন্য একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা করলেও এইবার কোন দলই পাওয়া গেলা না প্রতিযোগিতার জন্য। যারা অংশগ্রহণ করেছে শুধু মাত্র তারাই পুরস্কার জিতেছে। তাদের বিপক্ষে কেউ ছিলো না, এই যেনো নিরাশার ছায়া।

এই বিষয়ে রাঙামাটি সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক উত্তম খীসা বলেন, মাধ্যমিক, প্রাথমিক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদেরকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে বলে। জাতীয় বিভিন্ন দিবস সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে তাৎপর্য শিক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এখন জেলা প্রশাসন থেকে আমাদেরকে ডিসপ্লেতে অংশগ্রহণ করতে হবেই এমন কোন নির্দেশ দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করতে বলা হয়েছে। তাই আমরা কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেছি। তিনি আরো বলেন, ২৬ মার্চ আমাদেরকে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লেতে অংশগ্রহণ করতে বলে তাই আমরা উভয়ে অংশগ্রহণ করে থাকি।

এছাড়া রাঙামাটি শহরের অন্যান্য একাধিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে তারা জানান, ডিসপ্লে বিষয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদেরকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার মত শিক্ষক নেই। এছাড়া ডিসেম্বর মাস শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় বলেও অনেক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে না, তাই মাঠে ডিসপ্লে করা হয় না বলে তারা মন্তব্য করেন।

রাঙামাটি বায়তুল শরফ জব্বারিয়া মাদ্ররাসার সুপার মো: সামসুল আরেফিন বলেন, আমাদের মাদ্রাসা কুচকাওয়াজে সব সময় অংশগ্রহন করে, ঠিক তেমনিভাবে ডিসপ্লেতেও অংশগ্রহণ করতে পারে। এতে কোন বাধা নেই। তবে আমাদের মাদ্রাসায় শারীরিক শিক্ষক নেই। এছাড়া ডিসপ্লে করার মত কোনও পরিস্থিত নেই বলে আমরা অংশগ্রহণ করতে পারি না।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে মাঠে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে বিভিন্ন মাদ্রাসা অংশগ্রহণ করলেও ডিসপ্লেতে তাদের অংশগ্রহণ দেখা যায় না। এতে করে শিক্ষার্থীরা ডিসপ্লেতে অংশগ্রহণের বিনোদন উপভোগ করতে পারে না।

রাঙামাটির প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে এই বিষয়ে বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ে আলাদা ফান্ড থাকে। তবে রাঙামাটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ে সক্রিয় আছে বলে মনে হয় না। তারা এই বিষয়গুলো নিয়ে আগ্রহী না। তাই শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি চর্চা দিনে দিনে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। যখন শিক্ষার্থীদের মাঝে সাংস্কৃতিক চেতনা কাজ করবে না, তখন তারা ভিন্নপথে পরিচালিত হবে। ভিন্নপথে শিক্ষার্থীদের হাঁটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। তাই কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে নজর রাখার প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মাদ্রাসার অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদ্রাসাগুলো বাংলাদেশের বাইরে না, তাই এই দেশেরই অংশ। যেখানে সরকার মাদ্রাসা শিক্ষাকে গণমূখী করার চিন্তা করছে, সেখানে মাদ্রাসার পরিচালক কমিটি ও শিক্ষকদের এই অংশগুলো বাদ দেওয়াটা অপরাধ পর্যায়ে পড়ে। তাই আমরা আশা করবো তারাও প্রতিটি জাতীয় দিবসে সকলের সাথে একতালে অংশগ্রহণ করবে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো: মানজারুল মান্নান বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আমরা অংশগ্রহণ করার জন্য বলে থাকি। তবে তাদের প্রস্তুতির বিষয় আছে। প্রস্তুতি না থাকলে সমস্যা। আমরা ভবিষ্যৎতে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট করে তাদেরকে বলে দিতে পারি আপনারা এগুলো অনুশীলন করবেন। এতে করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণ বাড়বে। তিনি আরো বলেন, আগামী ২৬ মার্চসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস আরো জাঁকজমক ও সুন্দরভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন কাজ করবে। তিনি বলেন, এবারে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে’র বাইরে প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের টি-শার্ট প্রদান করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাগণ তা পরিধান করে কুচকাওয়াজের সময় মঞ্চের সামনে বসানো হয়েছিলো। এতে করে তাদের দেখে শিক্ষার্থীরা আরো বেশি অনুপ্রাণিত হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.