মহেশখালীতে গ্যাসের সন্ধান,ফায়ার সার্ভিস কর্মী আহত

0

কক্সবাজার প্রতিনিধি :  মহেশখালীতে গভীর নলকূপ স্থাপন করতে গিয়ে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে নলকূপ শ্রমিক। আর এ গ্যাস থেকে সৃষ্ট হয়েছে আগুনের লেলিহান শিখা। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় ফায়ার সার্ভিসের টিম এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

এ সময় ফায়ার সার্ভিসের ৩ কর্মী সহ ৪জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে নলকূপ শ্রমিক আক্তার হোসেন প্রকাশ মনুকে প্রথমে মহেশখালী হাসপাতাল ও পরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্বসিপাহীর পাড়া গ্রামে মৃত মোসলেম মিয়ার পুত্র নুরুল হক ডিলারে বাড়ীতে।

নুরুল হক ডিলার স্থানীয় লোকাজনের কৃষি সেচ জমিতে পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু করে ১৫ ডিসেম্বর থেকে। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টায় নলকূপ শ্রমিকরা ৪ শত ৮০ ফুট গভীরে নলকূপ এর ফাইপ স্থাপন করতে গেলে হঠাৎ প্রায় ২ শত ৮০ ফুট পাইপ মাটির নিচ থেকে ছিড়ে গিয়ে ২০০ ফুট পাইপ উপরে চলে আসে। তখন থেকে ২ দিন পর্যন্ত মাটির নিচের পাইপের সন্ধান করতে থাকে নলকূপ শ্রমিকরা। ২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় ঐ নলকূপ থেকে আরো কিছু পাইপের অংশ বেরিয়ে আসলে নলকূপ শ্রমিকরা তখন ঐ পাইপের সাথে নতুন পাইপ যুক্ত করতে পাইপের অংশ আগুনে গরম করার সময় নলকূপ থেকে আগুন বিস্তার করে। অনেক চেষ্টা করে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।

নলকূপ পাইপের সৃষ্ট আগুনে নলকূপ কর্মী জাগিরাঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আমিনের পুত্র আক্তর হোসেন প্রকাশ মুনর মুখমন্ডল আগুনে জলসে যায়।

প্রশাসনের ভয়ে তারা ঘটনাটি কাউকে না জানার চেষ্টা করে। এ সময় দম কল বাহিনীর ৩জন সদস্য আহত হয় বলে ষ্টেশন অফিসার দিমান বড়ুয়া দাবী করেন।

আগুন নিয়ন্ত্রনে এলেও বিগত ৩ দিন সেখান থেকে ধারা বাহিক গ্যাসের প্রভাবে পানি বিনা চাপে বাহির হতে থাকে। কোন ভাবে নলকূপ স্থানটি শত শত বস্তা বালি ও মাটি দিয়ে ভরাট করা যাচ্ছে না।

এদিকে এলাকার নারী পুরুষের মাঝে নলকূপের সৃষ্ট আগুনের পর থেকে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী পুরুষ এসে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় জমায়।
অপরদিকে বাড়ীর মালিক ও এলাকাবাসি এ নিয়ে চরম আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যে কোন সময়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন।

৩১ ডিসেম্বর এখবর পেয়ে মহেশখালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও বিভীষণ কান্তি দাশ, ইউপি চেয়ারম্যান জিহাদ বিন আলী শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ফজলুর করিম,স্থানীয় মেম্বার মোঃ জকরিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় ইউএনও নলকূপের পাশ্ববর্তী স্থানে কোন ধরনের আগুনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ জানান এবং সবাইকে শতর্ক থাকার জন্য আহবান জানান।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.