ধর্ম ও জীবন : আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিতে চন্দ্রবর্ষ, সৌরবর্ষ, রাত-দিন, সময়ের বিভক্তি সবই সমান। সময় বা ক্ষণসহ আল্লাহ তাআলাই জগতের সবকিছুর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও পরিচালক। সময়ের সর্বক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তেই মহান প্রভুর নির্দশন অনবরত প্রকাশ পায়। দিন-রাতের পরিবর্তনের ফলে বর্ষ পরিক্রমাও মহান প্রভুর এক বিশেষ দান।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘তিনিই (আল্লাহ) যিনি সৃষ্টি করেছেন রাত, দিন, চন্দ্র ও সূর্য। এগুলোর প্রতিটিই নিজ নিজ কক্ষপথে নিজস্ব গতিতে পরিভ্রমণে নিয়োজিত।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৩৩) চাঁদ-সূর্য দিন-রাত মহান প্রভুর এতো সুনিপুন সৃষ্টি যে এগুলো তাঁর বেধে দেয়া নিয়ম এবং গণ্ডির মধ্যেই ভ্রমণে নিয়োজিত। যা মানুষের জন্য চিন্তার খোরাক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সূর্য কখনোই চাঁদকে ধরতে পারবে না আর রাতও অতিক্রম করতে পারবে না দিনকে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে নিজস্ব গতিবেগে পরিভ্রমণে নিয়োজিত রয়েছে।’ (সুরা ইয়াসিন : আয়াত ৩৬)
যেহেতু সৃষ্টি জগতের মধ্যে চাঁদ, সুরুজ ও পৃথিবীসহ প্রতিটি গ্রহ-নক্ষত্র মহান আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি। তাছাড়া মানুষকে প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন। সেহেতু মানুষের কর্তব্য হলো আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত সময়-ক্ষণ, দিন-রাত-মাস-বছরকে তাঁর নির্দেশিত পথে অতিবাহিত করা। আল্লাহ তাআলা মানুষকে এ সব বিষয়ে সঠিক পথে চলতে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুরআনসহ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।
মানুষ যাতে সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে; অন্যায় ও অভিশপ্ত পথ পরিহার করে চলতে পারে। মানুষ যে দোয়াটি নামাজের প্রতিটি রাকাতে সুরা ফাতিহার মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে করে থাকে। যা স্বয়ং আল্লাহ তাআলাই মানুষের জন্য দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।
