রায়মোহন চাকমা ও মানিক মজুমদারের ৪৫ বছরেও মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি
মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি : একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রণাঙ্গনে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বরকল উপজেলার রায়মোহন চাকমা ও মানিক মজুমদার। স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি তাঁরা। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি তাদের নাম। লেখাপড়া না জানা, যোগাযোগের সমস্যা এবং সঠিকভাবে বুদ্ধি-পরামর্শ না পাওয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তাদের নাম অর্ন্তভুক্ত হয়নি বলে জানান তাদের পরিবারের সদস্যরা। এই দু’জনের মধ্যে রায়মোহন চাকমা বর্তমানে জীবিত থাকলেও মানিক মজুমদার মারা গেছেন বহু আগে।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়া বরকল উপজেলার বাসিন্দা রায়মোহন চাকমা জানান, ১৯৭১ সালে রণাঙ্গনের উত্তাল দিনগুলিতে তিনি ভারতের দেমাগ্রিতে গিয়ে মুক্তিবাহিনীর সাথে যোগ দেন। মুক্তিবাহিনী বরকল উপজেলার ৩নং আইমাছড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আন্দারমানিক এলাকা দিয়ে পুর্ব পাকিস্তানে প্রবেশ করে ওই এলাকায় পাকবাহিনীর ক্যাম্প আক্রমণ করে। মুক্তিবাহিনীর আক্রমণে পাকবাহিনীর অনেক সৈন্য হতাহত হয়। দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। আক্রমণে টিকতে না পেরে পাক সেনারা সেখান থেকে পালিয়ে গেলে মুক্তিবাহিনী সেই ক্যাম্পটি দখলে নেয়। সে যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সদস্য রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা মোঃ ইউছুফ নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি না দেয়ায় হতাশা প্রকাশ করে রায়মোহন চাকমা বলেন, যুদ্ধের দিনগুলোতে তাঁর সহযোদ্ধা কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ওয়ালা পালং গ্রামের এম,আই দুলাল কান্তি দে, লোহাগাড়া উপজেলার কেপিএম’র ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ছিদ্দিক, সাতকানিয়া উপজেলার মোঃ সরোয়ার কামালসহ অনেকেই মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেও আমাকে এখনো মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও যখন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলাম না, জীবদ্দশায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবো কিনা জানি না।
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া মানিক মজুমদারের কন্যা দীপালি মজুমদার আক্ষেপ করে বলেন, আমার বাবা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে মাতৃভূমির জন্য, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও এ অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ খোঁজ খবর নেয় না। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আশা বুকে নিয়ে ১৯৯০ সালে বার্ধক্য জনিত কারণে মারা যান তিনি।
এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা দুলাল কান্তি দে মুঠোফোনে বলেন, রায়মোহন চাকমা ও মানিক মজুমদারসহ আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের ময়দানে একসঙ্গে ছিলাম। ওই সময় তো আমরা মরেও যেতে পারতাম। যাঁরা বেঁচে আছি তাদেরকে অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিতে হবে। রায়মোহন চাকমা ও মানিক মজুমদার এই দু’জনকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি না দেয়া তা অত্যন্ত দুঃখজনক। অচিরেই তাদের নাম জাতীয় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তভুক্ত করা উচিত।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হেমায়েত আলম জানান, যুদ্ধকালীন সময়ে আমি বরকল উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা না হলেও উপজেলা কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পর এলাকার মানুষের কাছ থেকে শুনেছি রায়মোহন চাকমা ও মানিক মজুমদার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
