উখিয়ার বালুখালীতে আরো একটি রোহিঙ্গা বস্তি

0

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া (কক্সবাজার) : কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং বস্তি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে সীমান্তের নাফনদীর জিরো পয়েন্ট থেকে ১ কিলোমিটার পশ্চিমে বালুখালীর সংরক্ষিত বনভূমিতে গত ২ দিনে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৩ হাজারের অধিক সদ্য অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা-নারী পুরুষ শিশু। এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে সেখানে নতুন করে আরো একটি নতুন বস্তি তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৫০টির অধিক ঝুঁপড়িঘর তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। নতুন বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অভিযোগ কুতুপালং থেকে তাদের বিতাড়িত করা হয়েছে। অনোন্যাপায় হয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহযোগীতায় তারা পশ্চিম বালুখালীতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নতুন রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে ওঠায় অনুপ্রবেশ আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকার সচেতন মহল। গতকাল শনিবার সকালে পশ্চিম বালুখালীর বনভূমিতে গড়ে উঠা বস্তি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক সামাজিক বনায়ন ও সংরক্ষিত বনভূমির পাহাড় কেটে নতুন করে ঝুঁপড়ি ঘর নির্মান করছে। জানতে চাইলে মংডু লুদাইং গ্রামের মোঃ হোছাইন (৪০) জানান, তার স্বামী মোঃ আমিন গুলিবৃদ্ধ অবস্থায় বর্মি সেনার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ছেলে সন্তান নিয়ে এদেশে পালিয়ে এসেছে। নিরূপায় হয়ে বালুখালীতে আশ্রয় নিয়েছি। মংডুর কাজীর বিল গ্রামের হামিদ হোসেন মা ও দুই ছেলে সন্তান নিয়ে পালিয়ে এসেছে। বালুখালীর স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আবছার চৌধুরীর দয়ার উপরে এখানে আশ্রয় নিয়েছি।

বালুখালী বস্তির মোঃ হারুন জানান, গত ৫ দিনে প্রায় ৫ হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গা নাগরিক অনুপ্রবেশ করে কুতুপালংয়ে জড়ো হয়। এসব রোহিঙ্গাদের অনেকেই ঝুঁপড়ি নিমার্ণ করে কোন রকম ঠাই নিয়েছে। রাত পোহাতেই না পোহাতেই বনকর্মীরা তাদের ঝুঁপড়ি গুলো উচ্ছেদ করে দিলে এসব রোহিঙ্গারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। অসহায় অবস্থায় এসব রোহিঙ্গারা বালুখালীর বনভূমিতে আশ্রয় নিয়েছে। সে জানায়, বালুখালী বস্তিকে ৭টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। ৫০টি পরিবার নিয়ে একজন করে মাঝি সৃষ্টি করা হয়েছে। ৭টি ব্লকে ৭ জন মাঝি নতুন বস্তি পরিচালনা করার দায়িত্ব দিয়েছে স্থানীয় ইউপি সদস্য। এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ইউপি সদস্য নুরুল আবছার জানায়, কুতুপালং বস্তি এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কারণে তারা এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক কারণে বালুখালী এলাকায় তাদের আপাতত থাকার জন্য সহায়তা করা হয়েছে।কিন্তু রোহিঙ্গাদের অর্থের যোগান দিচ্ছেন বালুখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম। তবে তিনি এ কথা অস্বীকার করেন। স্থানীয় সাবেক মেম্বার গফরুল্লাহ জানান, সদ্য অনুপ্রবেশকারী সমস্ত রোহিঙ্গাদের এক জায়গায় সীমাবদ্ধতার ভিতরে নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রশাসনের উচিত ছিল।

তা না হলে এসব রোহিঙ্গারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। যা এলাকার আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশংকা রয়েছে। উপজেলা বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, পালংখালী ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্য নুরুল আবছার অতি উৎসাহী হয়ে বনভূমিতে রোহিঙ্গাদের পূণবাসন করেছে। বিষয়টি বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

মোঃ আনোয়ার মংডু বলি বাজারের ছৈয়দ হোসেন, বড় গৌজ বিল এলাকার হাফেজ ছব্বির আহম্মদ, জামবুনিয়ার মমতাজ বেগম, বড় গৌজ বিলের মামুনুর রশিদ, একরাম, নাইচং এলাকার রশিদা বেগম, রাবাইল্যা, তৈয়বা বেগম জানান, ইউপি সদস্য ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আমরা এখানে ঝুঁপড়ি ঘর নির্মান করে যাচ্ছি। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে পুনবাসন করছে প্রশাসন ইচ্ছে করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে। অন্যথায় এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা দেখা দিয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.