বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার::বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড় সমৃদ্ধ বদ্বীপ মহেশখালী। উপজেলার কত শতাংশ এলাকায় এখনো সরকারী বিদ্যুৎ পৌছেনি নাই তার হিসাব পল্লী বিদ্যুতের কাছে ও নেই। যেসব গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ পৌছেনি সেখানে কি সন্ধ্যার পরে সম্পূর্ণ গ্রাম অন্ধকার হয়ে যায়, নাকি তারা বিদ্যুতের বিকল্প কোনো উৎস ব্যবহার করে, তা ও জানেনা কেউ।
মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের ১১টা গ্রাম সহ পুরো ইউনিয়ন ৪৫বছরেও বিদ্যুৎ দেখেনি। মহেশখালী উপজেলার ৭টা ইউপি যথাযথ মুল্যায়ন ও সুযোগ সুবিধা পেলেও সম্পুর্ণ অবহেলিত ধলঘাটা ইউনিয়ন।
বাংলাদেশ ৬২% মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে।দেশের বিভিন্ন জেলায় যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানে ভরসা কেরোসিন কুপি, হারিকেন, হ্যাজাক ইত্যাদি, কোথাও কোথাও সোলার কিংবা বায়োগ্যাস। যেসব স্থানে তেমন কোন ব্যবস্থা নেই তারা আসলে মাগরিবের কিছু পরেই প্রস্তুত হতে থাকে ঘুমের জন্য আর উঠে পরে খুব ভোরে। শিক্ষার প্রসারেও চরম পিছিয়ে ধলঘাটা। কেননা সরকারি অনুদান যেমন নগন্য তেমনি বেসরকারী নানা প্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগ বিছিন্ন আর অন্ধকারাছন্ন এলাকা হওয়াতে আগ্রহ নিয়ে কাজ করছেনা বলে জানা যায়। অথচ যেসব এনজিও দারিদ্র বিমোচন আর স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করতে আগ্রহী তাদের জন্য গ্রামীণ জনপদে কাজ করার মতো অনেক সুযোগ ধলঘাটায়।
বাংলাদেশে মাত্র ৪০ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুত পৌঁছে গেছে। বাকি ৬০ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুত পৌঁছেনি| জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এই সরকারের সময়ে বিদ্যুতের ২৪ লাখ নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে । দেশে আট হাজার ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, মেরামত এবং জ্বালানি সংকটের কারণে দুই হাজার ৯০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হচ্ছে।
বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৭৩০০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হচ্ছে ৫০০০-৫৩০০ মেগাওয়াট। চাহিদা ও উৎপাদনে ব্যবধান ২০০০ মেগাওয়াট। আর এ কারণে লোডশেডিংয়ের লাগাম টেনে ধরতে পারছেন না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
গত সাড়ে তিন বছরে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়লেও চাহিদার তুলনায় তা কম। সরকারের বেশির ভাগ বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল না থাকায়, কুইক রেন্টাল থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এ অবস্থা আরও চরমে পৌঁছেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুইক রেন্টালের মালিকরা সরকারকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ দেয়ার কথা তা দিচ্ছেন না।
উল্টো বলছেন- তেল না দিলে বিদ্যুৎ দিতে পারবেন না। দিনের পর দিন তেলের অজুহাতে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, তারা কেন্দ্রগুলোতে নিম্নমানের পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন। এ কারণেও উৎপাদন কম হচ্ছে। এছাড়া সরকারের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সময়মতো মেরামত না করার কারণেও বন্ধ রয়েছে।
বিতরণকারী সংস্থা ডিপিডিসি, ডেসকো, পিডিবি,পল্লী বিদ্যুৎ,আরইবি, ওজোপাডিকো চাহিদার তুলনায় কখনও অর্ধেক, কখনও তার চেয়ে অল্প বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছে। এ কারণে তাদের লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির হিসাবেও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। একেকটি এলাকায় কমপক্ষে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।
বাস্তবতার সঙ্গে পিডিবির হিসাবের মিল নেই। কারণ, তাদের মতে, চাহিদা ৬২০০ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্রাহকদের সরবরাহকারী ও বিতরণকারী চাহিদা মতে, চাহিদা ৭৩০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ডিপিডিসির চাহিদা ১৬০০ মেগাওয়াট, ডেসকোর ৭০০ মেগাওয়াট, পিডিবির ১০০০ মেগাওয়াট, ওজোপাডিকোর ৬০০ ও আরইবির সর্বোচ্চ চাহিদা ৩৪০০ মেগাওয়াট। চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ব্যবধান ২০০০ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু সরকারের ১০০% বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করার মহাপরিকল্পনা ও হার মানছে ধলঘাটা ইউনিয়নের কাছে। মহেশখালীর জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারি প্রশাসনের কোন সেদিকে নজর নেই। যে কারনে এতো সমস্যা ইউনিয়নের। সন্ধ্যায় গ্রামের শিশুরা পড়ালেখা করতে পারেনা সহজে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় চেয়ারম্যান কামরুল হাসান জানান, জনগনের প্রতিনিধি হওয়া যতটা কঠিন তারচেয়ে বড় কঠিন জনগনের চাহিদা পুরণ করা। কেননা দীর্ঘ ৪৫ বছরেও বিদ্যুত বিহীন গ্রামের খবর কেউ নেয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সরকারের উচ্চ মহলে বিষয়টি আবেদন করে সকলকে সুনজর দেওয়ার কথা জানান।
এ বিভাগের আরও খবর
