বাংলাদেশীদের গুলি করা হবেনা মর্মে বিএসএফের অঙ্গীকার

0

সিটিনিউজ ডেস্ক:: সীমান্তে বাংলাদেশিদের গুলি না করার বিষয়ে বিজিবির কাছে আবারও অঙ্গীকার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। দুই বাহিনীর মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলনে এই অঙ্গীকার করে ভারতীয় বাহিনী। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নিয়ে আসতে দুই দেশের অঙ্গীকার পূরণে একে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছে বিজিবি।

বুধবার বেনাপোল সীমান্তে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু পাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, সীমান্ত হত্যাসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে বিএসএফ সদস্যদের অতি আক্রমণাত্মক আচরণ ও নিরস্ত্র মানুষদের গুলি করা বন্ধে তাগিদ দেয়া হয়। এরপর ভারতীয় পক্ষ আর গুলি না করার বিষয়ে কথা দেয়।

যুদ্ধাবস্থা নেই, অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতি সীমান্ত। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে প্রায়ই প্রাণ ঝরে বাংলাদেশিদের। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে বছরের পর বছর জুড়ে। দুই দেশেই এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া আছে। দুই দেশের মধ্যে বারবার কথা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে। বারবার বলা হচ্ছে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে চায় দুই দেশ। কিন্তু আগের তুলনায় হত্যা কিছুটা কমলেও একেবারে বন্ধ হয়নি তা। এই অবস্থায় বুধবারের এই সম্মেলনেও বিষয়টি জোরের সঙ্গে তুলে ধরে বিজিবি।

এই সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফের কলতাকা সেক্টর কমান্ডার ডিআইজি শ্রী মৃদুল সেনোয়াল ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সকালে বেনাপোল নোম্যানসল্যান্ডে তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিজিবির কর্মকর্তারা। পরে বিজিবির একটি চৌকস দল বিএসএফের ডিআইজিকে গার্ড অব অনার দেয়।

বিজিবির পক্ষে ২০ সদেস্যর প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ইকবাল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, যশোরের ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন, ২১ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুর রহমান, আর আইবির কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খবির হোসেন ও খুলনা বিজিবির স্টাফ অফিসার অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন) নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

বেলা ১১টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা বৈঠক চলে। এরপর যশোরের ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ‘বিএসফের পক্ষ থেকে নিরস্ত্র বাংলাদেশিদেরকে আর গুলি করা হবে না বলে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সীমান্তে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান ও জঙ্গি অনুপ্রবেশ রোধে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা এক সঙ্গে কাজ করবে বলেও কথা হয়েছে।’ এই বিষয়ে বিএসএফের কর্মকর্তারা অবশ্য গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

সীমান্তে বাংলাদেশিদের গুলি না করার বিষয়ে বিএসএফ এমন অঙ্গীকার এর আগেও করেছিল। ঢাকায় দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠকেও এমন অঙ্গীকার এসেছে নানা সময়। কিন্তু কথা রাখেনি ভারত। এমনকি বুলেটের বদলে রাবার বুলেট ছোড়ার অঙ্গীকার করেও রাখেনি ভারতীয় বাহিনী।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.