মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি::পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতির মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে, এখানে মানুষগুলো জাতীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হতে চায়। তবে তারা ইচ্ছে করলেই পারছে না। কারণ পার্বত্য এলাকায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের অস্ত্রবাজিতে ও অপহরণের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। এখানখার মানুষ বেশ কিছু সন্ত্রাসী দলের অবৈধ অস্ত্রের কাছে জিম্মি রয়েছে। তাই পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মূল চ্যালেঞ্জ এই অবৈধ অস্ত্র ঠেকানো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় এই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।
রাঙামাটি জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য দীপংকর তালুকদার এসব কথা বলেন। সোমবার বেলা বারোটায় রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মো: জাকির হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এড. মোল্লা মো: আবু কাওছার। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছা সেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, এমপি।
রাঙামাটি জেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছা সেবকলীগের সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান, রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হাজী মো: কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, জেলা যুবলীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী। সম্মেলনে স্বেচ্ছা সেবকলীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার আরো বলেন, পার্বত্য এলাকার উপজাতিদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিলো তাদের নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের সুযোগ করে দেওয়া। বর্তমান সরকার এই কথা বিবেচনা করা এই বছরে এই পার্বত্য অঞ্চলে নিজ মাতৃভাষার শিক্ষা লাভের সুযোগ করে দিয়েছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি আলহাজ¦ এড. মোল্লা মো: আবু কাওছার বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার এলে মনে হয় দেশের প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আর অন্য দল এলে মনে হয় দেশ আজ গেলো বলে। আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই দেশের উন্নয়ন দিনে দিনে বৃদ্ধি পায়। এই কারণে বাংলাদেশের মানুষ বারবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে থাকে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে অন্য সকল জেলার মত অত্র পার্বত্য অঞ্চলেও উন্নয়নের ছোয়া পৌঁছে গেছে। এই দুর্গম এলাকায় মানুষ বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কারণে। তাই এই উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে রাখতে স্বেচ্ছা সেবকলীগসহ আওয়ামী পরিবারের অন্য সকল অঙ্গ সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছা সেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এমপি বলেন, যারা শান্তি চুক্তি ও ভূমি কমিশনে নিয়ে নানান ধরনের আন্দোলন করছে তাদের মনে রাখা প্রয়োজন এই চুক্তি আওয়ামী লীগই করেছে, সুতরাং আওয়ামী লীগই এটার বাস্তবায়ন করবে। পার্বত্য অঞ্চলে যারা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে তারা কোন দিনও সফল হতে পারবে না।
তিনি আরো বলেন, নানিয়ারচর’র ব্রিজ যখন হয়ে যাবে, সাজেক পর্যন্ত রাস্তা যখন প্রশস্ত হয়ে যাবে, তখন এই রাস্তা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে ফলে তখন আর সন্ত্রাসী গোষ্ঠিরা এই অঞ্চলের মানুষকে আর নির্যাতন করতে পারবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের মূল বাধা হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র। এই অস্ত্রধারীদের কারণে আমরা এখানে জিম্মি হয়ে রয়েছি। পার্বত্য অঞ্চলে নৌকার জয়গান গাইতে হলে যে কয়েকটি স্থানে অবৈধ অস্ত্রের দৌরাত্ম্য তা রুখে দিতে হবে। তবেই পার্বত্য অঞ্চলও দেশের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত হতে পারবে।
সম্মেলন শেষে বিকালে দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি হিসেবে ৪৪ ভোট পেয়ে মো. সাওয়াল ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ৫১ ভোট পেয়ে মো. শাহ জাহান প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। মোট কাউন্সিল ৮৬ জন।
