মহেশখালী প্রতিনিধি : মহেশখালীতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চিহ্নিত সন্ত্রাসী-ডাকাত গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে আবারো ডাকাত-পুলিশ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় কালারমার ছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা এলাকার ডাকাত দলের প্রধান জয়নাল আবেদীন জুনু প্রকাশ জুইন্না ডাকাতকে ধরতে অভিযান চালানোর সময় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এর আগে গত রবিবার মহেশখালী পৌর এলাকার দাসীমাঝির পাড়ায় ইয়াবার আস্তানায় অভিযান চালানোর সময়ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছিল। এসময় ৩টি বন্দুক ও ১১শ’ পিস ইয়াবাসহ দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সোমবার বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় তিন এসআই, এক এএসআই ও দুই কনস্টেবলসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। থানার সূত্রে আহতরা হলেন- মহেশখালী থানার এস আই ফখরুল ,মাতারবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই শাওন দাশ, কালামারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই হারুনর রশিদ, এ এস আই জাহাঙ্গীর, কনেষ্টেবল মিঠুন ভৌমিক,আনসার ভিডিপি বিষু। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়।
এঘটনায় পুলিশ পলানোর চেষ্টাকালে ৯টি বন্দুক ও ৩০ রাউন্ড গুলিসহ উপকূলের শীর্ষ জলদস্যু জয়নাল আবেদীন জুনু প্রকাশ জুইন্না ডাকাতকে (৩২) গ্রেপ্তার করে। এসময় ডাকাত-পুলিশ আধ ঘণ্টাব্যাপী এই বন্দুকযুদ্ধে উভয় পক্ষে শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। চালিয়াতলী-মাতারবাড়ী সড়কের দাঁড়াখাল নামক স্থানের মাঝের চর ঘোনায় সন্ধ্যা ৭টায় এ ঘটনা ঘটে। ধৃত ডাকাত কালারমার ছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা গ্রামের আব্দুল গণির পুত্র।

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, মহেশখালী সদরের চালিয়াতলী ও মাতারবাড়ি সংযোগ সড়কের দাঁড়া খাল এলাকায় দীর্ঘ দিন থেকে একটি শক্তিশালী ডাকাত সিন্ডিকেট তৎপরতা চালিয়ে আসছিল। সন্ধ্যা নামলেই সুযোগ বুঝে এরা সড়ক ডাকাতিতে নেমে পড়তো। আজকেও (গতকাল) উত্তর নলবিলা এলাকার শীর্ষ ডাকাত জয়নাল আবেদীন জুনুর নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একদল ডাকাত সড়কে ডাকাতির জন্য নেমেছে এরকম খবর পেয়ে আমি ও আরো ৩ অফিসারসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাদা পোশাকে ওই এলাকায় অবস্থান নিই।
পরে ডাকাতদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা ৩০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এতে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতরা হলেন- মহেশখালী থানার এসআই ফখরুল ইসলাম মিনহাজ, এসআই শাওন দাশ, এএসআই জাহাঙ্গীর আলম, কনস্টেবল মিঠুন ভৌমিক ও ভিডিপি সদস্য বিষু শর্মা। ডাকাতরা পিছু হটলে পলানোর সময় জয়নাল আবেদীন প্রকাশ জুইন্না ডাকাতকে গ্রেপ্তার করি।
এসময় তার কাছে ও ঘটনাস্থল থেকে ৩টি দেশিয় তৈরি লম্বা বন্দুক, ৩টি থ্রি কোয়ার্টার বন্দুক ও ৩টি কাটা বন্দুকসহ ৩০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ডাকাত জুনুর বিরুদ্ধে হত্যা ও দস্যুতাসহ ৬/৭টি মামলা রয়েছে।
