মো: সাইফুল উদ্দীন,রাঙামাটি::রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে তার সহপাঠিরা হল ছেড়ে রাস্তায় অবস্থা নিয়েছে। বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম ব্যাচের শামসুজ্জামানি বাপ্পি নামের এক শিক্ষার্থীকে বহিস্কারের পর অস্থায়ী হল থেকে বের করে দেয়ার প্রেক্ষিতে, এর প্রতিবাদে প্রথম ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অস্থায়ী হলটির সামনের প্রধান ফটকে অবস্থান করছিলো শিক্ষার্থীরা।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র মো. ইমরান বলেন, বাপ্পীকে যে অভিযোগে বহিস্কার করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন, মূল কারণ হচ্ছে সে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম চালু করার জন্য আন্দোলন , মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর জম্মদিন পালন করা, জাতীর জনকের শোক দিবস ও স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য আন্দোলন করায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনর ও দাবিকে স্তব্দ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এই বহিস্কার করেছে। যখন সে আন্দোলন করেছে বিশ্ববিদ্যায় চালুর জন্য তখন এর বিরুদ্ধে একটি পক্ষ তখন থেকে তার বিরুদ্ধে কাজ করছে। এখন তাকে হল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, ওর জীবনের কোন নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় প্রশাসন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি। ওর বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করা না হলে আমরা অনশনে যাবো।
রাঙামাটি বিজ্ঞাণ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সে এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম ব্যাচের শামসুজ্জামানি বাপ্পি বলেন, ২০১৫ সনে শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করা জন্য আমি ও আমার বন্ধুরা আন্দোলন শুরু করেছিলাম। সেই আন্দোলনের ফলে একই বছরে শেষ দিকে শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হয়। যখন আমরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে যেতে চাই, জাতির জনকের শোক দিবসে পালন করার ব্যাপারে কথা বলি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জম্মদিন পালন করি বলে আমাদের সকলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে। প্রশাসনের সকল অনিয়ম নিয়ে কথা বলায় বিশ্ববিদ্যালয় সামান্য অভিযোগে আমাকে বহিস্কার করে। এটা মূলত: আমার মুখ বন্ধ করার চেষ্টা মাত্র। যা খুশি তা করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাঙামাটি বিজ্ঞাণ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা বলেন, আমি বতর্মানে চট্টগ্রাম অবস্থান করছি। এবিষয়ে আমি অবগত না। দেখি কি করা যায়।
এদিকে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শ্রেণী কার্যক্রম চালুর দাবিতে আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীদের নেতা শামসুজ্জামান বাপ্পীকে বহিষ্কারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মুন্না এবং সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন। এক বিবৃতিতে, তারা অবিলম্বে এই বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা আশা করছি বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
অন্যদিকে বিকালেই পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ এর রাঙামাটি জেলা কমিটির নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করে সংহতি প্রকাশ করে অবিলম্বে শিক্ষার্থী শামসুজ্জামান বাপ্পীর বহিষ্কারাদের প্রত্যাহার করতে হবে,অন্যথায় শনিবার থেকে লাগাতার কঠোর কর্মসূচী পালন করা হবে।
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টিরিয়াল কমিটি গত ৩১ জানুয়ারি ছাত্রবাসের নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগে গত ৪ আগস্ট ২০১৬ইং তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কারণ দর্শানো নেটিশ দেয় শামসুজ্জামানি বাপ্পিকে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এক নোটিশের মাধ্যমে বাপ্পিকে বহিস্কার এবং ১ মার্চ হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এদিন বিকেলে প্রশাসনের অনুরোধে পুলিশ গিয়ে তাকে হল থেকে বের করে দেয়। তখন তার সহপাঠিরা সবাই হল ছেড়ে রাস্তার নেমে আসে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনসহ বেশ কিছু কারণে একাধিক শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ।
২০১৪ সালে শুরু হওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলছে শহরের শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি ক্লাস রুমে। এবং ওই স্কুলেরই একটি শিক্ষক কোয়ার্টারকে অস্থায়ী ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
