মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি প্রতিনিধি::ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কাপ্তাইয়ে পালিত হলো মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই বা জলকেলি উৎসব।
শনিবার(১৫ এপ্রিল) চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার এলাকায় এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। পুরাতন বছরের সবরকম দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি ও জরাজীর্ণ ধুয়ে-মুছে ফেলতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সাংগ্রাই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার চত্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক খাইস্যা অং মারমা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটির সাংসদ ঊষাতন তালুকদার এমপি।
বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি দীপেন দেওয়ান, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী, শিক্ষাবিদ মংসানু মারমা, সাংগ্রাই উদ্যাপন কমিটির উপদেষ্টা অংছাই মারমা, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মংনুছিং মারমা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ দিলদার হোসেন, এএসপি (সার্কেল) আসলাম ইকবাল, আবাসিক প্রকৌশলী আসফাকুর রহমান মুজিব প্রমূখ।
প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ফিতা কেটে সাংগ্রাইয়ের মূল আকর্ষণ পানি খেলা বা জলকেলি উৎসবের উদ্বোধন করেন। এরপর শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা। পানি খেলা মূলত অবিবাহিত তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দেয়। এতে বিগত বছরের সকল পাপ ও জরাজীর্ণ ধুয়ে-মুছে যায় বলে তাদের বিশ্বাস। এ অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উৎসব কমিটি একটি নির্ধারিত স্থানে পানি খেলার ব্যবস্থা করে। কাপ্তাইয়ের চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার মাঠ চত্ত্বরে এই উৎসব চলে। একদিকে তরুণী অপর দিকে তরুণরা মুখোমুখি দাঁড়ায়। পানি ছিটানোর জন্য ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় পানি ভর্তি করে রাখে। এরপর বাঁশি বাজার সাথে সাথে চলে পরস্পর পরস্পকে পানি ছিটানো। অনেক সময় পর্যন্ত এ খেলাচলার পর এক দলের খেলা শেষ হলে আরেক দলের খেলা শুরু হয়। জনশ্র“তি রয়েছে, জলকেলি উৎসবের মাধ্যমে মারমা যুবক-যুবতীদের একে অন্যের সহচর্যে আসার সুযোগ হয়। এসময় তারা তাদের প্রিয় মানুষটিকে বেছে নেওয়ার কাজটিও সফলভাবে করে নেয়। সাংগ্রাই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পানি খেলা দেখার জন্য হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর উৎসবস্থলে সমবেত হয়। এছাড়া পুরো এলাকাতে চলে পানি ছিটানো উৎসব। পানি খেলার উৎসব দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক কাপ্তাইয়ের চিৎমরমে ভিড় জমায়। শুধু যে মারমা স¤প্রদায় এ উৎসব পালন করছে, তা নয়। এর সাথে পার্বত্য জেলার বিভিন্ন আধিবাসী জনগোষ্ঠী ও বাঙালিরা এই উৎসবে যোগ দেয়। ফলে এটি আর মারমাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এই উৎসব পরিণত হয় পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায়।
