বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাওয়ার পদ্মা পাড়ে পর্যটকদের ঢল

0

সিটিনিউজবিডি:- বৃষ্টি উপেক্ষা করে লৌহজং উপজেলার মাওয়ার পদ্মা পাড়ে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ঈদের পর আজ তৃতীয় দিনেও সেখানে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
শুধু মাওয়াই নয়, পর্যটকদের ভিড় ছড়িয়ে পড়েছে লৌহজংয়ের পদ্মা রিসোর্ট, মাওয়া রিসোর্ট, পদ্মার চর, নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর আশপাশসহ পদ্মা পাড়ের কয়েক কি.মি. জুড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়।
রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে পর্যটকরা আসছেন সপরিবারে। অনেকে বৃষ্টিতে ভিজে বন্ধু বা সঙ্গিনীকে নিয়ে একে অন্যের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উপভোগ করছেন বালু চরে ঘুড়ে বেড়ানোর আনন্দ, নদীতে গোসল করা আর পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্তের অভাবনীয় দৃশ্য।
একই সাথে নিরাপত্তার জন্য কোন ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যা হবার সাথে সাথেই পদ্মা পাড় ছাড়ছেন দূর-দূরান্তের পর্যটকরা।
ঈদের দিন বিকেলে, পরদিন রবিবার এবং ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবারও পদ্মা পাড়ে পর্যটকদের ভিড় ছিল নজর কাড়ার মত। ইট-পাথরের নগর জীবনে নানা সমস্যা নিয়ে বসবাসরত বাসিন্দাগণের অনেকেই স্বস্তির জন্য ছুটে আসছেন এ মুক্ত পরিবেশে। রাজধানীর ত্যাক্ত-বিরক্ত মানুষগুলো এখানে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্যের কাছে নিজেদের সপে দিচ্ছেন। উত্তাল পদ্মার ঢেউ, হরেক রকম নৌ-যানে চলচল, আর চরের জীবন যাত্রা তাদের বিমোহিত করছে।
রাজধানী ঢাকার কাছের এ এলাকাটি যেন এখন এক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টিও পর্যটকদের বন্দী করে রাখতে পারেনি ঘরের চার দেয়ালে। তাই রাজধানী ছাড়াও কেরানীগঞ্জ, দোহার, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, টঙ্গীবাড়ি, শ্রীনগর, সিরাজদিখানসহ কাছাকাছি বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে পর্যটকগণ আসছেন পদ্মার নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে।
বালুময় পদ্মার পাড় ঘুড়ে বেড়ানোর পাশাপাশি অনেকে আবার নৌকা বা ট্রলার ভাড়া করে চলে গেছেন পদ্মা নদীর মাঝে জেগে উঠা চরগুলোতে। সেখানে মুক্ত বাতাসে আনন্দ আর উল্লাসে মেতেছেন তারা, তাদের সঙ্গীদের নিয়ে। অনেকে আবার পদ্মার বুক চিড়ে স্পিডবোটে চড়ে ঢেউয়ের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন। তবে উত্তাল থাকায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা কেউ কেউ নামতে সাহস পাননি পদ্মায়। তারা পাশে দাঁড়িয়েই ভরা বর্ষায় পদ্মার যৌবন দেখছেন।
পদ্মা পাড়ের নৈঃসর্গিক দৃশ্য দেখতে কার না ভালো লাগে। তাই প্রিয়জন বা স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একান্তে কিছু সময় কাটাতে অনেকেই উঠেছেন লৌহজংয়ের পদ্মা ও মাওয়া রিসোর্টে। কানায় কানায় পূর্ণ এসব রিসোর্টে এসেও অনেকে বিমোহিত।
ঢাকার বানানীর বাসিন্দা সারোয়ার হোসেন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পদ্মা তীরে এসেছেন। বৃষ্টিতে তিনি সপরিবারে ভিজেছেন। মিরপুরের কনিকা আক্তার প্রাকৃতিক সৌযন্দ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। ধানমন্ডির সুমাইয়া রহমান বাসসকে জানান, ‘নদী, নৌকা, খরের স্তুপ, গরু নিয়ে রাখালের ছোটাছুটি, আর নদীর আকাশে সাদা মেঘের ভেলা দেখতে অনেক ভালো লাগছে। বৃষ্টি সমস্যার সৃষ্টি করলেও এরই মাঝে দেখা গেছে প্রকৃতির ভিন্ন আরেক চেহারা’।
পদ্মায় এখন বিশাল চর। এই চরের পাশ দিয়ে ঘোড়দৌঁড়ের পথের মত পদ্মার একটি শাখা মৃদু বয়ে চলছে। সেখানে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই যেন আলাদা। সে মজাও গ্রহণ করছেন সাহসী পর্যটকরা। এছাড়া শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ী খালের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর পৈত্রিক বাড়ির পিকনিক স্পট এবং মুক্তারপুর সেতুতেও ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভিড় পরেছে শহরের ইউরো পার্ক, গজারিয়ার মেঘনা ভিলেজসহ নানা আকর্ষণীয় স্থানেও।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.