সিটিনিউজবিডি:- আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প প্রসঙ্গে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, এই প্রকল্পের ফলে বাংলাদেশের সেচ ব্যবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ভারতের এই আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে একটি ডেথ সেন্টার পরিণত করার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।
বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে ভারত ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে বর্ষার মওসুমে পানি টেনে নিয়ে যাবে। ফলে বাংলাদেশ শুকনো মওসুমে কোনো পানি পাবে না। এর ফলে কৃষি এবং নদীগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এতে একতরফাভাবে ভারতই লাভবান হবে বাংলাদেশ নয়।’
তিনি বলেন, ‘এটা ভারতের নিজস্ব ব্যাপার হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি নদীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। যার ফলে ভারত চাইলেই এবিষয়ে একা সিদ্ধান্ত নিয়ে পারে না।’
সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গত ১৩ জুলাই ভারতের একটি পত্রিকা সেদেশের সুপ্রিম কোর্টের বরাত দিয়ে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প করা হবে বলে জানিয়েছে। এই প্রকল্পটি করার জন্য নির্দেশও দেয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে। এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও সরকারের নজরে আসলো না। তাহলে কি আমাদের বুঝতে হবে বাংলাদেশের পানি সম্পদমন্ত্রী ঘুমিয়ে থাকেন?’
সরকারকে উদ্দেশ্য করে রিপন বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে পানি সম্পদ বণ্টনের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলাচনায় বসুন। ভারতের হাই কমিশনারকে ডেকে আনুন। এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এবং ভারতের সঙ্গে যতো অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে সিগুলো মীমাংসার জন্য আলোচনা শুরু করুন।’
এসব মীমাংস করার জন্য শুধু পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও সম্পৃক্ত করতে হবে।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারকে সাফ জানিয়ে দেন, পানি প্রসঙ্গে এদেশর জনগণ ঐক্যবদ্ধ। এখানে কোনো বিভাজন নেই। আপনারা যদি চান বিএনপির সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী ও দেশের বরেণ্য পানি বিশ্লেষকদের পরামর্শ নিতে পারনে। বিএনপিও আপনাদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিতে প্রস্তুত রয়েছ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সহ-সাংগনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ- দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।
এ বিভাগের আরও খবর
