সরকার জনগণের টাকা খরচ করে লবিং করেছে: আনু মুহাম্মদ

0

সিটিনিউজ ডেস্ক::বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে জাতিসংঘের বিজ্ঞান ও শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর আপত্তি তুলে নেয়াকে লবিং এর কাছে বিজ্ঞানের আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের একজন আনু মুহাম্মদ। জাতীয় তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব এমনও বলেছেন, সুন্দরবন ধ্বংস হলে ইউনেস্কোর কী আসে যায়?

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে গত চার বছর ধরেই আন্দোলন করে আসছে জাতীয় কমিটি। তাদের উদ্বেগের সুরেই গত অক্টোবরে ইউনেস্কোও এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার তারা এই আপত্তি তুলে নিয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পোল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৪১তম অধিবেশন চলছে, সেখানেই এই ঘোষণা এসেছে।

এই প্রেক্ষিতে রামপালবিরোধীদের অন্যতম অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ফেসবুকে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তার দাবি, সরকার জনগণের বিপুল টাকা খরচ করে লবিং করেছে। তিনি লেখেন, ‘সুন্দরবন ধ্বংসে নিজের উন্মাদনা বাস্তবায়ন করতে, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের মানুষের টাকা খরচ করে, ইউনেস্কোতে বহু লবিং হয়েছে। আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এবারে তারা সফল। বলেছে ইউনেস্কো রামপাল প্রকল্প সম্পর্কে আপত্তি প্রত্যাহার করেছে।’

আনু মুহাম্মদ এবং তার সংগঠনের অভিযোগ সুন্দরবনের অদূরে কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের ক্ষতি করবে। তারা প্রকল্পটি সরিয়ে নেয়ার দাবিতে গত চার বছর ধরেই নানা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এই দাবিতে দেশের পাশাপাশি পরিবেশভিত্তিক বিদেশি সংগঠনের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে। ইউনেস্কোর সঙ্গেও বৈঠক করেছে জাতীয় কমিটি।

বাগেরহাটের রামপালে যেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে সেটি সুন্দরবনের প্রান্তসীমা থেকে ১৪ কিলোমিটার এবং সুন্দরবনে ঘোষিত বিশ্ব ঐহিত্য থেকে ৬৮ কিলোমিটার দূরের। তবে রামপালবিরোধীদের দাবি, এই কেন্দ্র বিশ্ব ঐহিত্যের অংশ সুন্দরবন ধ্বংস করে দেবে।

গত অক্টোবরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ইউনেস্কো সরকারকে চিঠি দেয়ার পর আনু মুহাম্মদ এবং তার অনুসারীরা এই বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে আসেন। সেই ইউনেস্কো এখন আপত্তি প্রত্যাহারের পর তাদের সমালোচনা করছেন আনু মুহাম্মদ।

জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব লেখেন, ‘এর আগে ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞদের ব্যাপক অনুসন্ধান এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ থেকেই তাঁদের সিদ্ধান্ত ছিলো এই প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। তাঁদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছিলো কীভাবে এই প্রকল্প সুন্দরবন বিনাশ করবে। একই রকম ব্যাখ্যা, হাতেগোণা কতিপয় ভাড়াখাটা ব্যক্তি ছাড়া, দেশ বিদেশের সকল বিশেষজ্ঞই দিয়েছেন। আজ যদি ইউনেস্কো তার এই অবস্থান থেকে সরে আসে তাহলে তার অর্থ হবে একটাই- ইউনেস্কোর বৈজ্ঞানিক অবস্থান গোষ্ঠী স্বার্থের লবিংএর কাছে কোনো না কোনো কারণে আত্মসমর্পণ করেছে।’

ইউনেস্কোর সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের একটি বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে ইউনেস্কো তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এটা ঠিক যে, সুন্দরবন বিনাশ হলে এইদেশ ও এইদেশের মানুষের সর্বনাশ, ইউনেস্কোর কর্মকর্তাদের তাতে কী আসে যায়?’।

ইউনেস্কো আপত্তি প্রত্যাহার করলেও জাতীয় কমিটির অবস্থান একই হবে জানিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তারা সন্দেহজনক কারণে আপত্তি প্রত্যাহার করতে পারে, বাংলাদেশের মানুষ পারে না। নদী নালা পাহাড় বিনাশেও পুরো তৃপ্তি হয় না, দেশের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ প্রধান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুন্দরবন না খাওয়া পর্যন্ত কোনো শান্তি নেই সরকারের। ভূতের পা থাকে উল্টো দিকে। সেজন্য সে যতো জোরে হাঁটে ততোই পেছন দিকে যায়। তারপরও তার খুশিতে আটখানা ভাব দেখা যায়। কিন্তু মানুষকে তো সামনের দিকেই হাঁটতে হবে। মানুষের বাঁচার পথ মানুষের মধ্যেই।’

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.