চট্টগ্রামে ডিগবাজির রাজনীতি

0

জুবায়ের সিদ্দিকী: রাজনীতি কেমন যেন ওলটপালট হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের তৃনমুলও যেন ভারসাম্যহীন হয়ে উঠেছে। এখানে রাজপথের প্রতিদ্বন্দ্বি ও আদর্শিক প্রতিপক্ষ নেতাকর্মীরা শাসক দলে যোগ দিচ্ছেন। শুধু চট্টগ্রামে নয়, সারাদেশের চিত্র এক। এমনকি গ্রুপিং রাজনীতির নগর আওয়ামী লীগের একে অন্যের ছায়াও দেখতে পারতেন না তারাই বসছেন এক টেবিলে। তবে এটা ভাল লক্ষন দলের জন্য হলেও ভীন্ন চিত্র হচ্ছে অন্য দলের লোক যখন ভিড়ছে দলে। রাজনীতির ভারসাম্য থাকছে না বলে অভিযোগ আসছে তৃনমুল আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্য থেকে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ কোন দল নয়।

এখানে কেউ যোগ দিতে পারবে না? বিএনপি বলছে,’এটা নাটকের শেষ দৃশ্য নয়। ভীতি দেখিয়ে অনেককে বিএনপি থেকে বের করানো হতে পারে। সময় সুযোগ হলে এরা আবার দলে ফিরবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকবর্গের অভিমত, এভাবে চলতে থাকলে দুর্বল হবে দেশের গনতন্ত্র। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বিএনপিহীন দশম সংসদ নির্বাচনের পর গত ১বছরে সারাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিএনপির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের পতাকাতলে এসেছেন। এই তালিকায় জামায়াতের লোকও।

এ প্রবনতা বেড়েছে ঢাকার দুটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর। আওয়ামী লীগে যোগদান করা তৃনমুল বিএনপি নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মামলা, হামলার ভয়, তিন মাসের টানা আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অনিহা, মানুষ পোড়ানোর রাজনীতির প্রতি ঘৃন প্রদর্শন এবং নিজেদের পরিবার পরিজন ও ব্যবসা বানিজ্য নিরাপদ রাখতে বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ভিড়ছেন আওয়ামী লীগের নৌকায়। এমনও শোনা যায়, আওয়ামী লীগের গ্রুপিং রাজনীতি চাঙ্গা রেখে পেষি শক্তি বাড়াতে অনেক নেতা ও এমপি অন্য দলের নেতাকর্মীকে আওয়ামী লীগে ভিড়াচ্ছেন বা টানছেন। বিএনপি জামায়াত অধ্যুষিত চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন্ এলাকা ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপিচ্যুতি হচ্ছে বেশি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও কুমিল্লা এলাকায় যোগদানের ঘটনা বেড়ে গেছে। ডিগবাজির ঘটনায় অনেক শীর্ষ নেতাও হতবাক হলেও বাস্তব চিত্র ডিগবাজির খেলা চলছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.