শহিদুল ইসলাম, উখিয়া::মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। যেটি কোরবানীর ঈদ হিসেবে সকলের জানা। উৎসর্গের এই উৎসব কে কেন্দ্র করে গরু মোটা তাজা করণের মহোৎসবে মেতে ওঠেছে কিছু অসাধু খামারীদের, গরু বেপারী ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তাদের অনৈতিক কাজের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে উখিয়া -টেকনাফের প্রত্যন্ত গাঁও গেরামে। দুই সপ্তাহ পরেই কোরবানির ঈদ।
কোরবানি ঈদকে ঘিরে উখিয়া-টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে প্রায় লক্ষাধিক গরু কোরবানির পশুর হাটে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে। এই কোরবানির পশুর নিরাপত্তা নিয়ে মহা টেনশনে রাত কাটাতে হয় গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের।
অন্যদিকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চক্র গরুকে নিষিদ্ধ মিয়ানমারের ডেক্সামেথাসোন ওষুধ খাওয়াচ্ছেন। এসব গরুর মাংস মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। টেকনাফ উপজেলায় মিয়ানমারের সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই শত শত গরু আসছে। আর গরু গুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় -উপজেলায় চলে যাচ্ছে। কিন্তু উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন জায়গাতে দেখা যায় গরুর খামার এর মধ্যে অন্যতম উখিয়ার মরিচ্যা, রুমখা পালং, ডিগলিয়া পালং, জালিয়া পালং, কুতুপালং, পালংখালী ও থাইংখালী, টেকনাফের সদর, সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া, শাহপরিদ্বীপ, হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী, উলুচামারী, লেচুয়াপ্রাং, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লাতুরিখোলা, চাকমাপাড়া, কানজর পাড়ার রইক্ষম বাহারছড়ার শামলাপুর, উত্তর শিলখালী ও জাহাজ পুরায় প্রায় শত শত পরিবারের আয়ের অন্যতম বড় উৎস হল ঈদ মৌসুমের জন্য বিভিন্ন গবাদি পশু পালন করা।
এদের প্রতিটি বাড়ির লোকজন এখন মহা ব্যস্ত গরু দেখাশুনা করা নিয়ে । গরুর গোয়াল ঘর ও খাবার ঘরে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখে। সাবান দিয়ে গরুকে গোসল করায়। এই সব এলাকায় সবুজ তরতাজা ঘাস ও খড়ের ওপর নির্ভরকরে পশু পালন করে থাকেন। টেকনাফের একজন গরু ব্যবসায়ী বলেন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গ্রামাঞ্চল থেকে কমদামে দুর্বল গরু কিনে কিছু দিন লালন-পালন করার পর গরুকে মিয়ানমারের ডেক্সামেথাসোন ওষুধ খাওয়ানো হয়।
অল্প কিছু দিনের মধ্যেই গরু বেশ মোটাতাজা হয়। এর ফলে গরু দেখতে আকর্ষনীয় হয়ে উঠায় কোরবানির হাটে ভাল দাম পাওয়া যায়।হ্নীলা বাজারের রশিদ আহাম্মদ, মোঃ সফি, হাবিবুর রহমান, লেচুয়াপ্রাং এর সোনা মিয়া, আলী হোসন, সিকদার পাড়ার দিলুর পুত্র বাদশা ও পল্লী চিকিৎসক রবির মতো সবার বাড়িতে ৩-৪টি করে কোরবানির গরু পোষা হচ্ছে। পাশাপাশি উখিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গরু পালন কোরবানীর ঈদের জন্য আলাদা বাণিজ্য।
উখিয়ার গরু বেপারী আলী আকবর, সোনা মিয়া ও আলী আহমদ, দরগাহ বিল গ্রামের মোঃ শাহ জাহান, আলী হোছেন, ছৈয়দ আহাম্মদ বলেন, গরুর পাশাপাশি ভালোমানের ছাগলও পালন হয় উখিয়ায়। বিশেষ করে উখিয়ার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় গ্রাম এবং টেকনাফ উপজেলায় ৬ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় কম করে হলেও লক্ষাধিক গরু কোরবানির হাটে নেয়ার জন্য অপেক্ষায় আছে।
গরুর খামারিরা অভিযোগ করেন, গরুর রোগ-বালাই হলে পশু চিকিৎসকরা বাড়তি টাকা ছাড়া এই এলাকা গুলোতে যাননা। পশু চিকিৎসক বলেন, ঐ গ্রাম্য এলাকায় যেতে রিক্সা ভাড়া বেশি হওয়ায় টাকা বেশি নিতে হয়। শাহপরীরদ্বীপের বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিয়ানমারের গরুর প্রভাবে গত বছর বিপুল লোকসানের মুখে পড়েছে উখিয়া টেকনাফের বেপারীরা।
ফলে উখিয়া -টেকনাফের চালু বাজারে গরু গুলো নিয়ে যেতে হলে পথিমধ্যে একদিন থাকতে হয় তার পরও রাস্তায় চাদাঁবাজ চক্রের ঈদ আসলে ডাকাতি বেড়ে যায়। এছাড়া ডাকাত আতংকে রাত জেগে পাহারা দিলেও পুলিশের সহায়তা পান না। এমনিতেই নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে দুই উপজেলার মানুষ বেঁচে থাকার নিরন্তর চেষ্টা চালান। এরপরও যদি ডাকাতের হামলায় তাদের সর্বস্ব লুটপাট হয়ে যায়, এচিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটে দুই উপজেলার গ্রামঞ্চলের বাসিন্দাদের।
তাদের সারা বছরের আয়ের স্বপ্ন কোরবানির পশু যাতে ডাকাতরা লুট করে নিয়ে যেতে না পারে তার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা দুই উপজেলার মানুষের। উখিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার অফিস সুত্র দাবী করেন উখিয়ায় পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। ঈদে সংকটে পড়তে হবেনা। প্রতারণার শিকার হতে হবেনা কাউকেই। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের জানান, কোরবানীর ঈদের গরুর বাজারে বাড়তি নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে। কেউ কোন দুর্ঘটনায় পড়বে না। এতে প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
