শহিদুল ইসলাম, উখিয়া (কক্সবাজার):: উখিয়ায় ঠাঁই হয়েছে মিয়ানমার সেনাদের অত্যাচারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের। এদের ৭০ ভাগই নারী ও শিশু। তাদের জায়গা দিতে গিয়ে বনভুমির পাহাড় কেটে তোলা হয়েছে ঝুপড়ি ঘর। জ্বালানির জন্য উজাড় হয়েছে বন। সংকুচিত হয়েছে বনায়ন। ভারসাম্য হারিয়েছে পরিবেশ। নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছে স্থানীয় বাসিন্দারা। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে রাজাপালং ও পালংখালী ইউনিয়ন এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে রোহিঙ্গা শিবির। রাজাপালংয়ের কুতুপালং ক্যাম্পটি স্থায়ী। আটাত্তর সাল থেকে এখানে রোহিঙ্গাদের ঠাঁই দেয়া হয়েছে।
২৫ আগষ্ট থেকে রাখাইনে সেনাও মগদের নির্যাতনে হঠাৎ রোহিঙ্গাদের ঢল সামাল দিতে অস্থায়ী শিবির হয়েছে পালংখালীতে বেশি। বালুখালী, হাকিমপাড়া, জামতলী, শফিউল¬ার কাটা, গইয়ালমারা, বাঘঘোনা, ময়নাঘোনা, বালখালী বাজারের আশপাশের এলাকা, তাজনিমারখোলা, এখন রোহিঙ্গা বসতি।
পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তার ইউনিয়নে লোকসংখ্যা ছিল ৫০ হাজারের কিছু বেশি। রোহিঙ্গাদের সিংহভাগ ঠাঁই পেয়েছে তার এলাকাতে। তারা আসার পর স্থানীয় লোকজনের কাজকর্ম কমে গেছে। স্থানীয়রা কাজ পাচ্ছে না।’ অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছে।
উখিয়ার বালুখালী পানবাজারে পশ্চিমে সামাজিক বনায়নের পাহাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় অস্থায়ী আবাসস্থল। মূল রাস্তা থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গাদের ডেরা। কালো পলিথিন, বাঁশের খুঠি দিয়ে তৈরি এসব ডেরা দেখতে সব একই রকম। এক পাহাড়ের উচু থেকে অন্য পাহাড়ের দিকে তাকালে চোখে পড়ে রোহিঙ্গাদের বসতি আর বসতি। পাহাড়ের গাঁয়ে কুদাল দিয়ে সিঁড়ির ধাপ কেটে কেটে রোহিঙ্গারা পৌঁছে গেছে পাহাড়ের চুড়ায়।
উখিয়া সদর রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ‘যে পরিমাণ বনভূমি ও গাছপালা রোহিঙ্গারা ধ্বংস করেছে তা বলার উপেক্ষা রাখেনা। এখন বড় চিন্তা সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে। এ নিরাপত্তায় এখানকার স্থানয়ীরা খুবই উদ্বিগ্ন। রোহিঙ্গারা এখন সংখ্যাগুরু। স্থানীয়রা সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে। এটি আমাদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরুপ।’
থাইনখালী ষ্টেশনের লাগোয়া ব্রীজের পাশ দিয়ে নেমে যাওয়া পথটি চলে গেছে তাজনিমারখোলা গ্রামে। এখানেও অনেক পাহাড়ি বনভূমি। বিশাল বনভুমি উজাড় হয়েছে রোহিঙ্গাদের ঘর করতে গিয়ে। এখানকার বাসিন্দা জাফর বলেন, ‘পাহাড়ি হাতি, বানর, ভাল¬ুক, বন মোরগ, নানা পশুপাখি সবই ছিল। এখন এসবের কিছুই নেই। এসব বন্যপ্রাণী আবাস্থল হারিয়ে অজানার পথে চলে গেছে।
তাজনিমারখোলা পাহাড়টি উখিয়ার অন্যান্য পাহাড়ের চেয়ে বেশ উঁচু। এখানে দাঁড়ালে পুবে বালুখালী, উত্তরে থাইনখালী, দখিনে কুতুপালংসহ সবগুলো শিবির দেখা যায়। এক সময়ের গহীন অরণ্যে ঘেরা পাহাড়ে সবুজের মিতালীর নামগন্ধ নেই। নীল, কালো, হলুদ, লাল, সাদা ত্রিপলের ছাউনিতে গড়ে উঠা ছোট ছোট ডেরা। যেন কালো আচঁল দিয়ে পাহাড় ঢাকা পড়েছে।
