সিটিনিউজবিডি : সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশি কিশোররাই ফুটবল উন্মাদনার কারিগর। আগামীতে জাতীয় দলের হাল ধরতে এ বয়সভিত্তিক দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ই নিজেদের তৈরি করছে। আর এর ‘ট্রায়াল’ হিসেবে অনেকে এ টুর্নামেন্টকে দেখছেন। আজ ফাইনাল জিততে পারলেই স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারবেন কিশোররা। প্রতিপক্ষ ভারত। যাদের সঙ্গে গ্রুপে ২-১ গোলে জয় আছে।
সাফের এই বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের তৃতীয় আসরের ফাইনাল জিততে চায় বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে। ফাইনাল ম্যাচে টুর্নামেন্টের যে স্পিরিট নিয়ে বাংলাদেশ দল খেলেছে, সেই স্পিরিটটাই ধরে রাখতে চান সবাই।
আজকের ফাইনালে বাংলাদেশ দলের অন্যতম স্ট্রাইকার সারোয়ার নিপু খেলতে পারছেন না। হলুদ কার্ডের কারণে দলে নেই। নিপুর অনুপস্থিতি দলের জন্য দুঃসংবাদ বলেই অনেকে মনে করেন। কোচ গোলাম জিলানী বলেন, ‘নিপুর অভাব দল অনুভব করবে। তার মতো গতিশীল খেলোয়াড় আর দলে নেই। তবে তার অনুপস্থিতিতে যে মাঠে নামবে সে হতাশ করবে না। রনিসহ একাধিক খেলোয়াড় আছে।’
কোচ গোলাম জিলানী আরও বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই ম্যাচ বাই ম্যাচ টার্গেট করে খেলেছি। ছেলেদের পরিশ্রম আর দেশবাসীর দোয়ায় আমরা ফাইনালে উঠেছি। এ ম্যাচেও আমরা ভালো ফুটবল খেলতে চাই। দেশবাসীকে ভালো কিছু উপহার দিতে চাই।’
সিলেটে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে গতকাল। খুব সম্ভবত কর্দমাক্ত মাঠেই হবে আজকের ফাইনাল। এই প্রসঙ্গে স্বাগতিক দলের কোচ বলেছেন, ‘প্রকৃতির ওপর কারও হাত নেই। আমাদের ছেলেদের জন্য যে মাঠ, প্রতিপক্ষের জন্যও একই মাঠ। তিনি দর্শকদের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটা দলের জন্য অসাধারণ কিছু। দর্শকদের এমন সমর্থন খেলোয়াড়দের স্পিরিট বাড়িয়ে দেয়।’
গতকাল বাংলাদেশ দল সাঁতার ও ওয়ার্মআপ করেছে। এক ফাঁকে দলবেঁধে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করেছেন। সেমিফাইনালের নায়ক সাদ উদ্দিন বলেছেন, ‘নিজে গোল করতে হবে, অন্যকে দিয়েও গোল করানোর টার্গেট তার। দলের সবাই নিজেদের সেরাটা খেললে সহজেই ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব। কারণ এই ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ২-১ গোলে বাংলাদেশ জিতেছে। আর নিপু থাকলে ভালো হতো।’
দলের অধিনায়ক শাওন হোসেইন বলেছেন, ‘এবার টার্গেট ফাইনাল। প্রতিপক্ষ যেকেউই হোক না কেন, তা দলের চিন্তার বিষয় নয। আর ভারতকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আমরা হারিয়েছি। এটা আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। দেশবাসীর সমর্থন নিয়ে আমরা ফাইনালে পৌঁছে গেছি। আশা করি ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয় করতে পারব।’অন্যদিকে ভারতীয় কোচ বিতান সিং বলেছেন, ‘দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আমরা সৌভাগ্যবশত জিতেই ফাইনালে পৌঁছেছি। ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক বাংলাদেশ। দর্শক সমর্থন তাদের পক্ষে থাকবে। তবে আমরা ফাইনালের লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। বাংলাদেশ দলকে সমীহ করি। শারীরিক, মানসিক, কৌশলগত-সবদিক দিয়েই তারা ভালো করছে। তারা খুব দ্রুতগতির। দুই উইঙ্গারই তাদের বড় শক্তির দিক। তাদের কীভাবে আটকানো যায় তার পরিকল্পনা ঠিক করে রেখেছি। ‘ম্যান টু ম্যান’ পরিকল্পনায় যাব না। আমি সবসময় চিন্তা করি কীভাবে রক্ষণভাগকে সামলাব, কীভাবে আক্রমণে উঠে আসব তা নিয়ে।’
ভারত অধিনায়ক প্রভোষকান সিং হিলের কথা, ‘ফাইনাল ম্যাচটি আমাদের জন্য কঠিন ম্যাচ। কারণ আমরা বাংলাদেশের কাছে হেরেছি। আমরা মানসিক দিক দিয়ে শক্তিশালী। কিন্তু বাংলাদেশের শক্তি হচ্ছে দর্শক সমর্থন।’সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বিকেল ৫টার ম্যাচে এখন জম্পেশ লড়াইয়ের অপেক্ষা।
