নিজস্ব প্রতিবেদক:: চন্দনাইশ উপজেলা শ্রমিক লীগের সহকারী অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও ধোপাছড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সদস্য নুরুল ইসলাম খোকা(৩৫)কে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এসময় আরো একজন গুলিবিদ্ধ হয় বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ধোপাছড়ির চিড়িংঘাটা মাইজখোলা এলাকায় এঘটনা ঘটে। নিহত খোকা চিড়িংঘাটা এলাকার সাবেক ইউপি মেম্বার মৃত আমিনুল ইসলামের পুত্র। এসময় গুলিবিদ্ধ হওয়া অপর ব্যক্তি হলো একই এলাকার আবিদুর রহমানের পুত্র স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী মাহাবুবুল কবীর(৪০)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল মাগরিবের নামাজের একটু আগে খোকা বাহির থেকে ফেরার সময় ঘরের সামনের রাস্তায় আসার সাথে সাথে ৮/১০ জনের একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে ধারালো দা ও কিরিচ দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে মাটিতে ফেলে দেয়। তার পর শরীরে উপুর্যপুরি গুলি বর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে দোহাজারীর চৌকিদার ফাঁড়ি এলাকায় এসে পৌঁছলে সে মারা যায়। এসময় খোকার সাথে থাকা কবীরও গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে সাতকানিয়ার একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ খোকা এলাকায় রাজনীতি নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসছিলো। পরে স্থানীয় অপর একটি গ্রশুপের সাথে খোকার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এনিয়ে আরো কয়েকবার খোকার সাথে ঘটনা ঘটেছিল এবং তার ওপর হামলাও হয়েছিল। গত ২৬ মার্চ নিহত খোকা ওমরাহ শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসে। ঘটনার পর থেকে চিড়িংঘাটা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ধোপাছড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সোহেল কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে খোকার ওপর হামলা করা হয়েছে। চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন ভূইয়া শ্রমিক লীগ নেতা নুরুল ইসলাম খোকাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
