জমে উঠেছে লালদীঘির ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা 

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বৈশাখী আমেজে প্রাণের উৎসবে মেতেছে চট্টগ্রামবাসী। শত বছর ধরে চলে আসা গ্রাম বাংলার অতীত ঐতিহ্য ধরে রেখে লালদীঘির চারপাশে জমে উঠেছে বৈশাখী মেলা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসে পণ্যের পসরা বসিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

সোমবার থেকে শুরু হয়েছে আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলার ১০৮ তম আসর। তিন দিনব্যাপী মেলা আজ শুরু হলেও বলীদের লড়াই হবে আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে।

এই মেলার শুভ উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার এবং প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন চসিক মেয়র আ জ ম নাসির।
লালদীঘিপাড়ের চারপাশে রাস্তাঘাটে যত দূর দুচোখ যায় শুধু বৈশাখী মেলার আবহ। নানান গ্রামীণ পণ্যের পসরা বসেছে এই মেলায়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কুটির শিল্পীরা নিয়ে এসেছেন নানান পণ্য।

মাছ ধরার চাঁই, বেতের তৈরি চালুনি, তৈজসপত্র, মাটির তৈরি পুতুল, মাটির তৈরি খেলনা, ফুলদানি, তালপাখা, টব, হাঁড়ি-পাতিল, কাঠ-বাঁশ-বেতের তৈরি আসবাবপত্র, হাতপাখা, ঝাড়ু, কুলা, শীতলপাটি, মুড়ি-মুড়কি, নাড়ু, গাছের চারা, দা-বটি, বৈশাখী ফলসহ সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে মেলায়।

আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর জহুর লাল হাজারী বলেন, ‘আব্দুল জব্বারের বলিখেলা ও বৈশাখী মেলা শত বছরের ঐতিহ্য। ঢাকা, টাঙাইল, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে পণ্যের পসরা বসিয়েছে ব্যবসায়ীরা। মেলা যাতে সার্থক ও সুন্দর হয়, সেই বিষয়ে সবার সহায়তা কামনা করছি।’

নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, ‘ মেলার নামে মূল সড়কে দোকানপাট বসিয়ে যানবাহন চলাচলে কোন ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করা যাবেনা বলে আয়োজকদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যার যার অবস্থান থেকে যখন সবাই আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিল সে সময় এ আন্দোলনে শামিল হন চট্টগ্রামের বনেদী সওদাগর আবদুল জব্বার। এ অন্দোলনে দেশের তরুণ-যুবকদের সংগঠিত করার পাশাপাশি শারীরিক যুদ্ধে অনুপ্রাণিত করতে ১৯০৯ সালে চালু করেন এ কুস্তি প্রতিযোগিতা। যাকে আঞ্চলিক ভাষায় বলে বলী খেলা।

প্রতি বছরের ১২ বৈশাখ বিকেলে লালদীঘি ময়দানে চলে কুস্তি প্রতিযোগিতা। যেখানে অংশ নেয় দেশ সেরা কুস্তিগিররা। আর এ বলী খেলাকে কেন্দ্র করে বসে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.