সিটিনিউজ ডেস্ক:: ধর্ষণ মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেন ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু। একইসঙ্গে তার দুই সঙ্গীকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মুক্তি দেওয়া হয়েছে আরও ২ জনকে। আসারামের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বুধবার যোধপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের ভিতরেই আসারামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় রায় দেন বিশেষ আদালত। গত চারবছর ধরে যোধপুর জেলেই বন্দি ৭৭ বছর বয়সী আসারাম।
২০১৩ সালে উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের ১৬ বছরের কিশোরীকে যোধপুরের মানাই গ্রামে নিজের আশ্রমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে আসারাম। বিষয়টা জানাজানি হলে খুন করে ফেলবেন বলেও ওই কিশোরী ও তার পরিবারকে হুমকি দেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ২০১৩ সালেই গ্রেপ্তার হন আসারাম। তার বিরুদ্ধে গুজরাটের সুরাটেও আরেকটি ধর্ষণের মামলা চলছে।
রায় ঘোষণার পর নির্যাতিতা তরুণীর বাবা সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘আশাকরি আসারামের কড়া সাজা হবে। এতদিনে ন্যায় বিচার পেলাম। দুর্দশার দিনে যাঁরা আমাদের পাশে ছিলেন তাদের ধন্যবাদ। যেসব সাক্ষীদের খুন করে লোপাট করে দেওয়া হয়েছে তাদের পরিবারও ন্যায় বিচার পাবে বলে মনে করছি।’
অন্যদিকে আসারামের মুখপাত্র নীলম দুবে বলেন, ‘বিচার ব্যবস্থার উপরে আমাদের আস্থা রয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’
কথিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর অন্তত ৪শ আশ্রম রয়েছে, যেখানে তিনি অনুসারীদের দীক্ষা দেন। ১৯৭২ সালে গুজরাটে খোলেন আসারাম খোলেন তার প্রথম আশ্রম।
ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত আরেক স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিমের শাস্তি ঘোষণার দিন ভক্তদের তাণ্ডবের কথা মাথায় রেখেই বুধবার কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় যোধপুরকে। রাজস্থান, গুজরাত ও হরিয়ানা, তিন রাজ্যেই নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়। উত্তরপ্রদেশে নির্যাতিতার বাড়ির বাইরেও মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।
