রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও রাশিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে

0

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া : বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে গঠনমূলক অালোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন হবে, নিরাপওা পরিষদ ও দ্রুত এর সমাধান চায়। রোহিঙ্গা প্রত্যবাসনে চীন ও রাশিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের নিরাপওা পরিষদের প্রতিনিধি দল।সফররত জাতিসংঘের নিরাপওা পরিষদের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সংলগ্ন কোনার পাড়া জিরো পয়েন্টের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তারা সেখানে যান।

২৬ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি জিরো পয়েন্টে অবস্থান করা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন।

রোহিঙ্গারা তাদের ওপর চালানো মিয়ানমার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন। এরপর তারা সেখান থেকে উখিয়ার কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পে যান। এসময় প্রতিনিধি দল দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জড়ো হয়েছিল।

এর আগে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে দুদিনের সফরে গতকাল শনিবার বিকেলে কুয়েত এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ইরাক থেকে সরাসরি কক্সবাজারে আসেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলটি।

এরপর তারা উখিয়ার ইনানীর রয়েল টিউলিপ হোটেলে গিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

জিরো পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান।এরপর বিকেলে তারা ঢাকা ফিরে যাবেন।
ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে মিয়ানমার যাবে প্রতিনিধি দলটি।

জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সরকারি পদস্থ ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তরা।

আর প্রতিনিধি দলের ২৬ জনের মধ্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধিসহ ১০ জন স্থায়ী এবং পাচঁজন উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে উত্তরাঞ্চলের রাজ্য রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, এই অভিযানের সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘জাতিগত নিধন’, ‘গণহত্যা’ ও ‘পদ্ধতিগত’ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।

যদিও শুরু থেকেই মিয়ানমার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার চুক্তি করেছে। এসময় সাথে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার অালম, শরনার্থী সচিব অাবুল কালাম, চট্রগ্রামের রেন্ঞের ডি অাইজি এ এইচ এম মনিরুজ্জামান,ককসবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার ড:একে ইকবাল হোসেন, উখিয়া সার্কেল চাই লাউ মারমা, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি একরামুল ছিদ্দিক ও উখিয়া থানার ওসি অাবুল খায়ের। সকাল থেকে ককসবাজার -টেকনাফ সড়কের বিভিন্ন স্হানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহন কম ছিল।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.