এক আইএমইআই নম্বরেই চলছে পৌনে ৪ কোটি ফোন!

0

দেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর পর ‘ক্লোন’ বা নকল মোবাইল হ্যান্ডসেট নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে বর্তমানে লক্ষ লক্ষ ভুয়া আইএমইআই (IMEI) নম্বরযুক্ত হ্যান্ডসেট সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একটি নির্দিষ্ট আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করেই সচল আছে ৩ কোটি ৯১ লক্ষেরও বেশি ডিভাইস।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে ক্লোন ও নকল ফোনের বিস্তার যে কতটা গভীর, তা এনইআইআর-এর ডাটাবেজ বিশ্লেষণ করে স্পষ্টভাবে বেরিয়ে এসেছে।

ভয়াবহ আইএমইআই জালিয়াতি
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, নেটওয়ার্কে এমন অনেক আইএমইআই নম্বর রয়েছে যার কোনো বৈধ অস্তিত্ব নেই। উদাহরণস্বরূপ— “1111111111111”, “0000000000000” বা “9999999999999” এর মতো প্যাটার্ন ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ ফোন চলছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, গত ১০ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ‘99999999999999’ এই একটি মাত্র আইএমইআই নম্বরে ৩ কোটি ৯১ লক্ষ ২২ হাজার ৫৩৪টি সংযোগ বা ডিভাইস পাওয়া গেছে। এছাড়া শীর্ষ ২০টি ভুয়া আইএমইআই-এর তালিকায় দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট ডুপ্লিকেট নম্বরে (440015202000) প্রায় সাড়ে ১৯ লাখ এবং অন্য একটি নম্বরে (35227301738634) সাড়ে ১৭ লাখের বেশি হ্যান্ডসেট চলছে। এমনকি শুধুমাত্র ‘০’ (শূন্য) আইএমইআই নম্বরেও ৫ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি ডিভাইস সক্রিয় আছে।

জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ঝুঁকি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নিম্নমানের নকল ফোনগুলোর কোনো ধরনের রেডিয়েশন টেস্ট বা স্পেসিফিক অ্যাবজরপশন রেট (SAR) টেস্টিং করা হয়নি। ফলে এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। স্মার্টফোনের পাশাপাশি সিসিটিভি বা বিভিন্ন আইওটি (IOT) ডিভাইসেও এসব ভুয়া নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বর্তমান সিস্টেমে মোবাইল অপারেটররা সাধারণ হ্যান্ডসেট ও আইওটি ডিভাইসের আইএমইআই আলাদা করতে পারছে না।

অপরাধের নিরাপদ মাধ্যম ‘অবৈধ ফোন’
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন উল্লেখ করে জানানো হয়, দেশের ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইসের মাধ্যমে। এছাড়া বিটিআরসি ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) জালিয়াতির ৮৫ শতাংশই ঘটেছে অবৈধ বা রি-প্রোগ্রাম করা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে। গত এক বছরে প্রায় ১.৮ লাখ ফোন চুরির অভিযোগ পাওয়া গেলেও আইএমইআই জালিয়াতির কারণে তার অধিকাংশই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এখনই বন্ধ হচ্ছে না এসব ফোন
ভয়াবহ জালিয়াতি ধরা পড়লেও সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে এখনই এসব ফোন বন্ধ করছে না অন্তর্বর্তী সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জনজীবনে অসুবিধা তৈরি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ সরকার নেবে না। তবে এসব ফোনকে নেটওয়ার্কে ‘গ্রে’ (Grey) হিসেবে ট্যাগ করা হবে। পাশাপাশি বৈধভাবে আমদানিকৃত আইওটি ডিভাইসগুলো আলাদাভাবে ট্যাগ করার কাজ শুরু করেছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন ফোনের নামে নাগরিকদের কাছে এভাবে নকল ও ক্লোন ফোন বিক্রি করা একটি নজিরবিহীন প্রতারণা। জনস্বার্থে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.