কাজী ইব্রাহিম সেলিম : বাংলাদেশ বৃষ্টি বাদলের দেশ। এ দেশটিতে বৃষ্টি বাদল হবেই। বৃষ্টিবাদলের দোষ দিয়ে কি লাভ? নালা এভাবে ভর্তি হয়ে থাকলে বৃষ্টিপাতের পানি গিয়ে পড়বে কোথায়? নালার ওপর দীর্ঘদিনের কাদা মাটিতে ঘাস জম্মেছে। গাছও উঠেছে। গত বছরও এইসব নালাগুলো এভাবে ভর্তি ছিল, ফলে জলাবদ্ধতা ছোবল দিয়েছে নগরবাসীকে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। আমরা শুধু জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি চাই, এই গান গেয়ে যায়। কিন্তু মুক্তি মিলার জন্য কি কাজ করছি? শুধু বড় বড় কাজ করলে মুক্তি মিলবে, হাজার কোটি টাকার দরকার আছে বলা হয়।
কিন্তু বাংলাদেশ গরীব রাষ্ট্র, এদেশে এত টাকা মিলবে কোত্থেকে সেটা কেউ ভাবছেন না? জনগণ থেকে আদায় করেই তো কাজ করার জন্য টাকা যোগাতে হবে। কিন্তু ব্যবসা বাণিজ্য মন্দা চলছে, বেকারত্বও বাড়ছে, জনগণের হাতে টাকা থাকলেই তো দেবে। টাকা না থাকলে দেবে কোত্থেকে? বর্তমানে যেই বড় বড় নালাগুলো আছে সেই নালাগুলো নির্মাণ করতে পূর্বে দায়িত্বে থাকা সরকার জনগণ থেকে অনেক জায়গা নিয়েছেন, জনগণ থেকে আদায় করা অনেক অর্থ খরচ করে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন। সেই নালাগুলোর আজ অযত্নে অবহেলায় করুণ দৃশ্য দেখতে হচ্ছে। নতুন নালা নির্মাণ করলে সেই নালার যত্ন নিতে হবে কিন্তু যেই নালাগুলো রয়েছে সেগুলোর ঠিক মতো যত্ন নেওয়া হচ্ছেনা তাহলে নতুন নালা নির্মাণ করা হলে সেগুলোর যে, যত্ন নেওয়া হবে এর নিশ্চয়তা কি? বর্তমানে যেই নালাগুলো আছে সেই নালাগুলোর প্রায় একের তৃতীয়া কাদা মাটিতে ভর্তি হয়ে রয়েছে। এই নালাগুলো এতই বড় করে নির্মাণ করা হয়েছে যে, মুষলধারে বৃষ্টিপাত হলেও পুরো নগরী পানি ধারণ ক্ষমতা রয়েছে এই নালার।
কিন্তু এই নালা গুলোকে কাদামাটি পরিস্কার রেখে পানি ধারণ করার সুযোগটা তো সৃষ্টি করে দিতে হবে। নালাগুলোর তলা পরিস্কারের মাধ্যমে ছোট কাজ করেই জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীর মুক্তির মতো বড়ধরণের উপকার পাওয়া সম্ভব। পূর্বে আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র পদে দায়িত্বে থাকাবস্থায় এসকেভেটর নামিয়ে দিয়ে নালার তলা পরিস্কার করা হতো।
সেসময় এভাবে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়নি। আবার সেসময়ও একবার ওয়ান এলেভেনের সময় আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করায় নালার তলা পরিস্কার করা হয়নি, সেজন্য, কাদা-মাটিতে নালা ভর্তি হয়ে স্মরণকালের বয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছিল। তবে মহিউদ্দিন চৌধুরী মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথেই নালাগুলোতে এসকেভেটর নামিয়ে দিয়ে তলা পরিস্কার করায় পরের বছর ওভাবে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়নি। সেই জলাবদ্ধতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর অবদান বুঝিয়েছিলেন নগরবাসীকে।
এরপর মেয়র পদে দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন মনজুর আলম, তার নিজস্ব অর্থায়নে সিটি কর্পোরেশনের কাজের জন্য অনেক মালামালও কিনেছেন। অতন্ত মানুষ ভাল হলেও কর্মীদের থেকে দক্ষতার সহিত নালার তলা পরিস্কার করার মতো কাজ আদায় করে নিতে পারেনি। ফলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলেনি নগরবাসীর। এরপর সিটি মেয়র পদে দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন আজম নাছির উদ্দিন, প্রথম প্রথম নালায় এসকেভেটর নামিয়ে দিয়ে নলার তলা পরিস্কার করা হয়েছে, দক্ষতার সহিত রাতে ময়লা সরানোর মতো সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সেই সময়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে নি। তখন আমরা নগরবাসী ভেবেছিলাম তিনি নগনবাসীর দুঃখ দুর্দশা ঘুছাবেন ও দক্ষতার সহিত কাজের মাধ্যমে তিনিও আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো প্রিয় হয়ে উঠবেন। কিন্তু পরের বছরগুলোতে দেখা গেল নালায় এসকেভেটর নামিয়ে দিয়ে ঠিক মতো তলা পরিস্কার করা হচ্ছে না। কার মনে কি আছে তা বুঝা বড় দায়। নাকি বড় কাজ করার উদ্দেশ্যে ছোট কাজ গুলোকে তুচ্ছ করে ফেলে রাখা হচ্ছে মনেহয়।
অথচ এই ছোট কাজেই বড়ধরণের উপকার মিলবে। নগরীর ২ নং গেইট এলাকার বড় খাল, মির্জারপুল এলাকার বড় খাল, সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা, নাছিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকা, শুলকবহর এলাকা, বহদ্দারহাট ফরিদের পাড়া এলাকাসহ কোন খালটির তলা পরিস্কার আছে কি সংশ্লিষ্টরা একটু ঘুরে দেখুন। এই নালাগুলো তো বলেই দিচ্ছে তার পানি ধারণ করার ক্ষমতা রাখা হয়নাই। এই অবস্থায় যদিও এক পসলা বৃষ্টিপাত হয় তাহলে পানি গুলো যাবে কোথায়? নগরবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে সেজন্য, সংশ্লিষ্টদেরকে এখন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা নগরবাসী।
