কমছে ছোলার দাম!

0

অর্থ ও বাণিজ্য, সিটি নিউজ :: রমজানে ভোগ্য পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে ছোলার। আমদানির সঙ্গে চাহিদার হেরফের হলেই অস্থির হয়ে ওঠে এই পণ্যের বাজার। গেল রমজানে শবেবরাতের পর প্রথম ১০ দিন বাজারে অস্থিরতা ছিল। পরে চাহিদা না থাকায় বেশির ভাগ ছোলাই অবিক্রিত থেকে গিয়েছিল। অবিক্রিত সেই ছোলা এবার রমজানে বিক্রি হবে। এর সঙ্গে চলতি অর্থবছরেই আমদানি হয়েছে আরো বিপুল পরিমাণ ছোলা।

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের আমদানির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল এক লাখ ৬৯ হাজার টন ছোলা। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসেই আমদানি হয়েছে এক লাখ ২২ হাজার টন। অর্থবছরের বাকি এখনো তিন মাস। ফলে চাহিদার অতিরিক্ত ছোলা আমদানি হবে নিশ্চিত।

আমদানির এই চিত্রই বলছে, বিগত অর্থবছরের চেয়ে অনেক বেশি ছোলা এবার আমদানি হয়েছে। এটি শুধু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছোলা আমদানির তথ্য। এর বাইরে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকেও প্রচুর ছোলা আমদানি হচ্ছে।

ছোলার আমদানিকারক ও বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী জানান, বন্দরে জাহাজজট ঝুঁকি এড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রমজানের ভোগ্য পণ্যের দাম যথেষ্ট সহনীয় থাকায় আগেভাগেই পণ্য আমদানি শুরু করি। এর মধ্যে বেশ কিছু পণ্য গুদামে পৌঁছে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

এবার যে পরিমাণ রমজানের পণ্য আমদানি হয়েছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি এভাবে থাকলে তাতে ছোলা কেজিতে গত বছরের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা কম থাকবে। আর বিভিন্ন ধরনের ডালও ১০ থেকে ২০ টাকা কম থাকবে। ফলে রমজানে দাম বাড়ার কোনো কারণ দেখছি না।

জানা গেছে, ট্যারিফ কমিশন ও সরকারি হিসাবে প্রতি মাসে ছোলার চাহিদা ১২ হাজার টন হলেও রমজান মাসে এর চাহিদা বেড়ে এক মাসেই ৫০ হাজার টনে উন্নীত হয়। চলতি ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চে ১ লাখ ছয় হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে।

২০১৭ সালে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল মাত্র ৫৬ হাজার টন। ছোলার চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি হলেও রমজানের শুরুতে ক্রেতাদের একসঙ্গে কেনার প্রতিযোগিতার কারণেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এই সুযোগে পাইকারি ও খুচরা দুই ব্যবসায়ীরাই দাম বাড়িয়ে মুনাফা আদায় করে।

গত মার্চের শেষ দিকে খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২৫০ টাকায়, কেজিপ্রতি দাম ৬০ টাকায়। গতকাল বিক্রি হয়েছে মানভেদে কেজি এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। ফলে এক সপ্তাহ আগের চেয়ে দাম এখন কম। বিগত রমজানের প্রথম সপ্তাহে ছোলা বিক্রি হয়েছিল ৭০ থেকে ৮৫ টাকায়!

খাতুনগঞ্জের ছোলার আড়তদার বলেন, পাইকারি বাজারে বেচাকেনা নেই, দামও কম। আড়তে পাইকারিতে মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮৭০ টাকায় অর্থাৎ কেজিতে ৫০ টাকার মতো। ভালোমানের অস্ট্রেলিয়ার ছোলা এক হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে দাম আরেকটু বেশি ছিল। রমজান পর্যন্ত বাজার এমনটাই থাকবে, বরং দাম আরো কমবে।

রমজানের ভোগ্য পণ্য বিক্রি শুরু হয় মূলত শবেবরাতের পর। অর্থাৎ ১ মে থেকে অন্তত ১০ দিন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা পাইকারের কাছ থেকে পণ্য কিনে খুচরা বাজারে নিয়ে যাবে। রমজান শুরুর দু-এক দিন আগে থেকে ১০ রমজান পর্যন্ত সেগুলো বিক্রি করবে। ফলে বাজারে দাম কেমন হবে তা সেই সময়ের ওপর নির্ভর করছে।

চট্টগ্রাম ডাল মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম মহিউদ্দিন জানান, আমদানি মূল্যের চেয়ে মণপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কম দামে এখন অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হচ্ছে। আমদানি মূল্য খরচসহ দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ১৫০ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে মানভেদে এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকায়।

আর বাজারে থাকা মিয়ানমারের ছোলা বিক্রি হচ্ছে ২৫শ টাকা মণ। কিন্তু সেগুলোর চাহিদা কম। আগের বছরের ছোলা অবিক্রিত রয়ে গেছে, সেই সঙ্গে এবার আমদানীকৃত ছোলার মান ও রং ভালো হয়নি। এ কারণে প্রতিযোগিতা দিয়ে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে। আমার মনে হয় না রমজানেও ছোলার দাম বেশি হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.