মাদকবিরোধী অভিযান: ১০০ ছাড়াল নিহতের সংখ্যা

0

সিটিনিউজ ডেস্ক:: চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে দেশের বিভিন্ন জেলায় র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গতকাল পর্যন্ত এই সংখ্যাটি ছিল ৯৬ জন। গত রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে নয়জন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এনিয়ে এই অভিযোগে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০৫ জনে।

রবিবার রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কুমিল্লায় দুইজন, পিরোজপুরে দুইজন, নাটোরে একজন, পাবনায় একজন এবং ঝিনাইদহে একজন নিহত হয়েছেন। আর সাতক্ষীরায় মাদকসহ পাওয়া গেছে গুলিবিদ্ধ দুই লাশ।

পুলিশ ও র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী নিহতরা সবাই মাদক কারবারে জড়িত। তাদের সবার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদকবিরোধী আইনে মামলা আছে।

প্রতিটি বন্দুকযুদ্ধের কাহিনি প্রায় একই রকম। ‘মাদকের কারবারি’কে নিয়ে অভিযানে বের হলে গুলি করে তাদের সহযোগীরা। আর গোলাগুলির এক পর্যায়ে নিহত হন সন্দেহভাজন মাদকের কারবারি। কখনও কখনও পুলিশের এক-দুই জন সদস্য আহতও হন।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই বর্ণনা অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করছেন। পুলিশ যেটাকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলছে, তারা এটাকে হত্যা বলছেন। তারা সন্দেজভাজনদের বিচারের মুখোমুখি করার পক্ষে।

এমনকি সরকারি দল আওয়ামী লীগের মধ্যেও এই অভিযান নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কক্সবাজারের টেকনাফে সরকারদলীয় নেতা এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হক নিহতের পর এই অভিযান থামাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আকুতি জানিয়ে খোলা চিঠি লিখেছেন কক্সবাজারের পৌর মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী।

তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এই চিঠিটি তিনি পোস্ট করেছেন ফেসবুকে, আশা করছেন, তার নেত্রীর কাছে এই আহ্বান পৌঁছে যাবে।

এদিকে এই মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল। তাদের অভিযোগ, এই অভিযানে চুনোপুটিরাই মারা যাচ্ছে বা গ্রেপ্তার হচ্ছে। যারা মূল হোতা এবং রাঘববোয়াল তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে মনে করেন তারা। এমনকি সরকারদলীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে ক্ষোভ আছে জনমনে।

গত ৩ মে ঢাকায় র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মতো মাদকের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিতে বাহিনীটিকে নির্দেশ দেন। এরপর থেকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে র‌্যাব। তাদের পাশাপাশি পুলিশ ও ডিবি পুলিশও অভিযানে মাঠে নামে।

প্রথম দুই-তিন দিন কোনো বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। র‌্যাবের অভিযান শুরুর পর প্রথম বন্দুকযুদ্ধ হয় ৭ মে রাতে; তাতে নারায়ণগঞ্জ ও কুষ্টিয়ায় একজন করে নিহত হয়। এরপর ৯ মে রাজশাহীতে নিহত হয় একজন।

১৪ মে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব প্রধান বেনজির আহমদ মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি আবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তার হুঁশিয়ারির পরই থেকে মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার হয়।

সবচেয়ে বেশি নিহত হয় গত ২৫ মে শুক্রবার দিবাগত রাতে। ওই রাতে ১২ জন নিহত হয়। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নয়জন এবং তিনজন নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে নিহত হন।

গত শনিবার রাতে নিহত হয় ১১ জন। এর মধ্যে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, খুলনা, বাগেরহাট, নোয়াখালী, ঠাকুরগাঁওয়ে একজন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। আর মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে দুইজন মারা গেছেন নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে।

সবমিলিয়ে গত ৪ মে অভিযান শুরু পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০২ জন মাদক কারবারি নিহত হলেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.