যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ে ৫ জনের মৃত্যু

0

 সিটিনিউজ ডেস্ক:: মন্থর হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় (হারিকেন) ফ্লোরেন্সের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে পাঁচজন নিহত হয়েছে। হারিকেন থেকে এটি এখন উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়েছে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। এ অবস্থা আরো কয়েকদিন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

নর্থ ক্যারোলাইনায় পাঁচজনের মৃত্যু : উইলমিংটন এলাকায় শুক্রবার বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়লে এক নারী ও তাঁর শিশুসন্তান নিহত হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুটির বাবাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

লেনয়ার কাউন্টিতে দুই বৃদ্ধ (৭০) নিহত হয়েছেন। এঁদের একজনের মৃত্যু হয় বৈদ্যুতিক জেনারেটরের সংযোগ দেওয়ার সময়। পরিবারের সদস্যরা জানায়, আরেকজন মারা যান বাড়ির বাইরে কুকুরের অবস্থা জানতে গিয়ে ঝড়ের কারণে।

এ ছাড়া হ্যামস্টেড এলাকায় এক নারী নিহত হয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সময়মতো তার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে নর্থ ক্যারোলাইনার  রাইটসভিল সৈকতে আঘাত হানে হারিকেন ফ্লোরেন্স। প্রথম দিকে চার মাত্রার বলা হলেও ঘূর্ণিঝড়টি এখন ১ মাত্রার।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়টি এখনো ভয়ংকর অবস্থায় রয়েছে। বিপর্যয়কর বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জলোচ্ছ্বাস এবং আগামী কয়েকদিনের এক মিটার বৃষ্টিপাত ধীর গতিতে বিপর্যয় ডেকে আনবে। এরই মধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনার কিছু অংশে ১০ ফুট উচ্চতার ঢেউ দেখা গেছে।

নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর রয় কুপার বলেন, আগামী কয়েকদিন হারিকেনের উগ্র আচরণ অঙ্গরাজ্যজুড়ে থাকবে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি এখন সাউথ ক্যারোলাইনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ রায়ান মাউই টুইটারে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১৮ ট্রিলিয়ন গ্যালন বৃষ্টিপাত হবে যুক্তরাষ্ট্রে।

নর্থ ক্যারোলাইনায় প্রায় আট লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এ অবস্থা চলবে কয়েক দিন বা সপ্তাহ। ২০ হাজারের বেশি বাসিন্দা জরুরি আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। ঝড় যতক্ষণ থাকবে তাদের সেখানে থাকতে বলা হয়েছে। জ্যাকসনভিলে একটি হোটেল থেকে এক রাতে ৬০ জনের বেশি লোককে উদ্ধার করা হয়েছে।

৩০ হাজার মানুষের এলাকা নিউবার্ন ১০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা পেগি পেরি সিএনএনকে বলেন, তিনি চিলেকোঠায় তাঁর তিন আত্মীয়সহ আটকে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমার বাড়িতে কোমর সমান পানি উঠে যায়। এখন বুক সমান পানি।’

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.