সিটি নিউজ ডেস্ক : শপথ, নির্বাচন এবং মনোনয়ন নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপি তুচ্ছ- তাচ্ছিল্য ও অপমান করছে বলে মনে করছেন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
তাদের ভাষ্য, বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ জন এমপির মধ্যে ৫ জন শপথ নিলেও ফখরুল নেননি। এ কারণে তার আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে উপনির্বাচনে দল থেকে তাকে না দিয়ে জি এম সিরাজকে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি ফখরুলকে তাচ্ছিল্য করেছে। আর তার হাত দিয়েই সিরাজকে মনোনয়নের চিঠি দিয়ে বিএনপি মির্জা আলমগীরকে প্রকাশ্য অপমান করেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, যে আসন থেকে মির্জা ফখরুল নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই আসনে দল থেকে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়ায় তিনি কিছুটা মনোক্ষুন্ন হয়েছেন। তাছাড়া নিজ হাত দিয়েই সিরাজকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়ায় মির্জা ফখরুল সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন। তবে তিনি বিষয়টি কাউকে বুঝতে দিচ্ছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচন করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু দুর্নীতির একটি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তিনি কারাগারে থাকায় গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটে এই আসন থেকে নির্বাচন করেন বিজয়ী হন ফখরুল। এরপর বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ জন এমপির মধ্যে ৫ জন শপথ নিলেও বিএনপির একটি গ্রুপের কারণে ফখরুল শপথ গ্রহণ করতে পারেননি। যদিও ফখরুল বলেছেন, তিনি কৌশলের অংশ হিসাবে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এবিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলটির নেতাকর্মীরা শপথ নেওয়ার সময় গণমাধ্যমে বলেছিলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তেই যদি পাঁচ এমপি শপথ নিয়ে থাকেন তাহলে তো শপথ না নিয়ে মির্জা ফখরুল আসলে তারেক রহমানের নির্দেশনা ভঙ্গ করেছেন।
প্রসঙ্গত, বিএনপি চোয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আসন বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে জি এম সিরাজকে ধানের শীষে চূড়ান্ত প্রতীক দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু এই আসনে গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে ফখরুল শপথ না নেওয়ার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে দেন স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ৬ আসনে জয় পায় বিএনপি। আর বিএনপি জোট গণফোরাম থেকে নির্বাচিত হন দু’জন। তবে ভোটের দিন রাতেই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট। এরপর বিএনপি জোট থেকে সিদ্ধান্ত হয়, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিজয়ী প্রার্থীরা শপথ নেবেন না।
আগামী ২৪ জুন বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
