চট্টগ্রামে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সঞ্জয় ধর হত্যা রহস্য উদঘাটন
সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দরটিলা এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সঞ্জয় ধর হত্যা মামলার রহস্য দ্রুত সময়ে উদঘাটন করেছেন ইপিজেড থানা পুলিশ।গত ২১ জুন গভীর রাতে কে বা কাহারা ব্যবসায়ী সঞ্জয় ধরকে নগরীর বন্দরটিলায় তার নিজ দোকান, মনিশ্রী জুয়েলার্সের ভিতর প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। এ সংক্রান্তে ব্যবসায়ী সঞ্জয় ধরের স্ত্রী রেখা ধর বাদী হয়ে ইপিজেড থানায় একটি হত্যা মামলা নং-২০, তাং-২৩/০৬/২০১৯ইং।
মামলার তদন্তকারী অফিসার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ ওসমান গনি এর নেতৃত্বে ইপিজেড থানার একটি দল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ২৪ জুন মামলার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী প্রধান আসামী বিকাশ কান্তি মল্লিক প্রকাশ তপন মল্লিক(৫২)কে গ্রেফতার করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রেফতারকৃত আসামী বিকাশের দেয়া তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগর ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত অন্যতম আসামী মোঃ শফিউল উমাম প্রকাশ বাদশা (৩৭) ও ওষুধ দোকানী বিশ্বিজিৎ কে গ্রেফতার করে ইপিজেড থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত সকল আসামী আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী সঞ্জয় ধরকে রাতের আধারে তার দোকানে প্রবেশ করে ধারালো ছোরা দিয়ে জবাই করে হত্যা করে মর্মে স্বীকার করে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মনিশ্রী জুয়েলার্স এর মালিক সঞ্জয় ধর দীর্ঘদিন ধরে বিকাশ কান্তি মল্লিক ওরফে তপন মল্লিকের দোকানে চাকরি করতেন। ২০১৫ সালে সেখান থেকে বের হয়ে পৃথকভাবে দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন সঞ্জয়। এরপর তপন মলিতকের কাছে চাকরিকালে ১০ লাখ টাকা পাবেন দাবি করে আইনি নোটিশ পাঠান। বিষয়টি জুয়েলার্স সমিতির মাধ্যমে সুরাহা হয়। কিন্তু এ নিয়ে সঞ্জয় ধরের সঙ্গে তপন মলিতকের দ্বন্দ্ব লেগে থাকে।
সঞ্জয় ধর দোকান শুরু করলে তপন মলিতকের অনেক গ্রাহক তার কাছে চলে যায়। এনিয়েও ক্ষিপ্ত ছিলেন তপন মলিতক। শফিউল উমাম ওরফে বাদশা পেশায় টমটম চালক। তিনি সঞ্জয় ধরের কাছ থেকে এক লাখ টাকা সুদে ধার নেন। দীর্ঘদিন এ টাকা পরিশোধ করছিলেন না। এরপর সঞ্জয় ধরের কাছে থাকা বাদশার একটি চেক ডিজঅনার করে বাদশার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দেন সঞ্জয় ধর। এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একই এলাকার ওষুধের দোকানি বিশ্বজিৎ মজুমদারের সঙ্গেও সঞ্জয়ের কাছ থেকে নেওয়া সুদের টাকা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের জের ধরে তিনজিন মিলে সঞ্জয় ধরকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
গত ২১ জুন বিকালে তপন মল্লিকের দোকানের সামনে বাদশার দেখা হয়। রাত ১১টার দিকে বাদশাকে দোকানে আসতে বলেন তপন মল্লিক। বাদশা তপন মল্লিকের দোকানে গিয়ে দেখতে পান বিশ্বজিৎ ও তপন মল্লিক শলা পরামর্শ করছেন। একসঙ্গে তিনজন বের হয়ে সঞ্জয় ধরের দোকানে যান। দোকানের সার্টার অর্ধেক নামানো ছিল। প্রথমে বাদশা দোকানে ঢুকে সঞ্জয় ধরের মুখ চেপে ধরে। এরপর তপন মল্লিক দোকানে ঢুকে সঞ্জয় ধরকে মাটিতে ফেলে হাত-পা চেপে ধরে। এসময় সঞ্জয় ধরের ডান বাহুতে ঘুমের ইনজেকশন পুশ করে বের হয়ে যান বিশ্বজিৎ। বাদশা তার কোমরে থাকা ছোরা দিয়ে সঞ্জয় ধরের মাথা চেপে ধরে জবাই করে দেন। বাদশার কাছ থেকে ছোরা নিয়ে তপন মল্লিক সঞ্জয় ধরের পেটে ছুরিকাঘাত করে। সঞ্জয় ধরকে হত্যার পর দোকানে থাকা সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে বাদশা। সিসি ক্যামেরা ও যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যায় তপন মল্লিক।
