প্রিয়ংকা গান্ধীকে গ্রেফতার

0

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সর্ব ভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও উত্তর প্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয়েছে। ভারতের উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রা গ্রামে যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হয়। আটকের পরে তাকে একটি সরকারি গাড়িতে গেস্ট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়। উত্তর প্রদেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী এলাকা।

গত বুধবার ভারতের উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলীয় সোনভদ্রা জেলায় নারীসহ ১০ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সোনভদ্রা গ্রামে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের দেখতে যাচ্ছিলেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটকের ঘটনায় তাঁর ভাই রাহুল গান্ধী এক টুইটে প্রিয়াঙ্কার গ্রেপ্তারকে ‘বিরক্তকর’ বলে অভিহিত করেন।

এনডিটিভির অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রা জেলায় যাওয়ার পথে পুলিশ প্রিয়াঙ্কার গাড়ি থামায়। প্রিয়াঙ্কাকে সোনভদ্রা জেলায় যেতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু তিনি ঐ স্থানকে সরতে অস্বীকৃতি জানান।

প্রিয়াঙ্কা আরো বলেন, তাঁকে বলা হয়েছে যে তিনি বারানসি থেকে সোনভদ্রায় যেতে পারবেন না। কারণ সোনভদ্রায় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ‘আমি এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসে আছি। কেউ কি আমাকে ওই আদেশের কপি দেখাতে পারবেন?’

তারপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে গাড়িতে তোলে। সাংবাদিকদের গাড়িতে পিয়াঙ্কা বলেন,‘আমি জানি না তারা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেকোনো জায়গায় যেতে রাজি। উত্তর প্রদেশের এক পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে প্রিয়াঙ্কাকে তাদের জিম্মায় গেস্ট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গেস্ট হাউজে প্রিয়াঙ্কা কংগ্রেস কর্মীদের বলেন,‘আমি সোনভদ্রা গ্রামের নিরাপত্তার অভাব বোধ করা মানুষদের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ও এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা না করা পর্যন্ত আমি এ জায়গা ত্যাগ করবো না।

সাংবাদিকদের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন,‘আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। সেখানে পুরো পরিবারকে নিষ্ঠুরভাবে গুলি করে মারা হয়েছে। তাদের মধ্যে আমার সন্তানের বয়সী একটি ছেলে হাসপাতালে শুয়ে আছে। কোন আইনের ভিত্তিতে আমাকে এখানে আটকানো হয়েছে, তা বলুন।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের উত্তর প্রদেশে অপরাধ বৃদ্ধি ও আইনের শাসন নেই।

গুলির ঘটনার পরদিন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এক টুইটে বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যে অপরাধীদের আত্মবিশ^াস এতটাই বেড়েছে যে তারা দিনের আলোতে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। উবমা গ্রামের ভূমিদস্যুদের হাতে এভাবে খুনের ঘটনা মর্মান্তিক। রাজ্যের প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রী ঘুমাচ্ছেন। এভাবেই কি রাজ্য অপরাধমুক্ত হবে?

রাজ্যের মুখমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ আজ শুক্রবার কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন,‘অতীতে কংগ্রেস সরকার ভূমিদস্যুদের নিরাপত্তা দিয়েছিল। সোনভদ্রা ঘটনা তার উদাহরণ।

আজ সকালে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সোনভদ্রার ঘটনায় আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। ৩৬ এক জমিকে কেন্দ্র করে গুজ্জার ও গন্ড সম্প্রদায়ের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নারীসহ ১০ জন মারা যায় ও ২৪ জন আহত হয়। অভিযোগ রয়েছে, যোগী দত্ত নামের এক গ্রামপ্রধান জমি দখলে বাধা পেয়ে আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গুলি ছোড়েন। গুলি ছোঁড়ার পাশাপাশি জমি দখলে ২০০ লোক ও ৩২ ট্রাক্টর ট্রলি নিয়ে আসেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ২৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রামপ্রধান যোগী দত্তের ভাইসহ ৭৮জনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভারতের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিক ও নেহেরু-গান্ধী পরিবারের অন্যতম সদস্য। প্রিয়াঙ্কার পিতা প্রয়াত রাজীব গান্ধী, পিতামহী প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী ও প্রপিতামহ জওহরলাল নেহেরু তিনজনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদাভিষিক্ত ছিলেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.