চালকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে

0

সিটি নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চালকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। নয়তো আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে পথচারীদেরও সচেতনভাবে চলতে হবে। শুধু চালকদের দোষ দিলে হবে না।

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু চালক বা সরকারের নয়, সাধারণ মানুষেরও। তবে দেশের শিক্ষিত মানুষগুলোও কেন ট্রাফিক আইন মানেন না এই প্রশ্নটাই আমি রেখে যাচ্ছি। তাদেরকে ট্রাফিক আইন মানতে হবে। এটা হল সব থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর কৃষিবিদি ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, নকশা পরিবর্তন করে কোনো প্রশস্ত গাড়ি রাস্তায় নামালে, এমনকি যে কোনো নিয়ম না মেনে গাড়ি চালালে বড়-ছোট সবার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একইসঙ্গে তিনি নিয়মের বাইরে গাড়ি না চালাতে সবাইকে আহ্বানও জানান।

সরকারপ্রধান বলেন, পেছনে কোনো গাড়ি আছে কি-না, রাস্তার সাইট কতটুকু আছে, ভুল পথে গাড়ি চলছে কি-না এমন বিষয় মাথায় রেখে চালকদের গাড়ি চালাতে হবে। চলাফেরায় সচেতন থাকতে হবে সবাইকে। নিজেকে দায়ী করতে হবে। দুর্ঘটনা ঘটলে দেখতে হবে কার দোষ আসলে। পথচারীদের নিজেদের দায়িত্ব আছে। যারা চালান তাদেরও দায়িত্ব আছে। পেছনে দেখে চলতে হবে। দায়িত্ব নিজের। এটা সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথের ক্ষেত্রেও। রেলপথে আরও সতর্ক হতে হবে ক্রসিংয়ে গেলে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাতো একটা যান্ত্রিক বিষয়। ট্রেন চলে আসলো, সামনে ক্রসিং, লক্ষ্য রেখে যেতে হবে। না হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। সবার সহযোগিতা দরকার। আবারও বলছি সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। শুধু চালককে দুষলে হবে না। এছাড়া আমরাও সড়ক উন্নয়ন করছি। দুর্ঘটনা কমে এসেছে। সচেতন হলে একেবারেই কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, চারলেনের রাস্তা করার ব্যবস্থা করছি সারাদেশে। ইতোমধ্যে অনেক সড়ক চারলেন হয়ে গেছে। যাতে দুর্ঘটনা কমে সেভাবে কাজ করছি। প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ছিলাম কিছুটা। এবার আর সেটা নেই। সব পরিবর্তন হবে যান চলাচলে। এমনকি চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থাও করছি। ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চালকদের বিশ্রাম এবং উন্নত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করবো আমরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ হয়ত যারা অশিক্ষিত বা যারা জানে না, তাদের কথা আমরা ছেড়েই দিলাম। আমাদের দেশের শিক্ষিতজন, তারা কেন ট্রাফিক আইন মানবে না? কারণ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হোক, এটা কারও কাছে কাম্য না। আমরা কেউ’ই চাই না। কেউ পঙ্গু হয়ে যাক। এসব দুর্ঘটনায় কত মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়। সেজন্যই আমরা চাই, সবসময় একটা নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা থাকুক। দেশে শান্তি শৃংখলা বজায় থাকুক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের কার্যকরি সভাপতি ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.