সিটি নিউজ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভয় শব্দটি আমার ডিকশনারিতে নেই। তিনি বলেন, ভয় পেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান হতো না। আমার সঙ্গে সব সময় বৈরী আচরণ করা হয়েছে। আমি উজানে নাও ঠেলে ঠেলে রাজনীতি করেছি, সরকারে এসেছি।
তিনি বলেন, আমি যখন বাংলার মাটিতে পা রেখেছি তখন থেকেই আমি জানি যে, আমাকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করা হতে পারে। কারণ পঁচাত্তরে আমার বাবা-মা, ভাইকে হত্যা করেছে যারা- সেই ষড়যন্ত্রকারীরাই আমাকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করতে পারে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনের অভিজ্ঞতা জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের বিষয়ে এক প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজের নির্বাচিত হওয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন রাশেদ খান মেনন। তার বিষয়ে যা করার ১৪ দলই করেছে।
ক্যাসিনোকাণ্ডের বিষয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, সাংবাদিকরা এত খবর রাখেন অথচ ক্যাসিনো জানেন না কেন। এতদিন ধরে কোনো একটা গণমাধ্যম এমন নিউজ দিতে পারল না। এ জবাব কি সাংবাদিকরা জাতির কাছে দিতে পারবেন?
শেখ হাসিনা বলেন, আমারও প্রশ্ন এ রকম ঘটনা ঘটে যাচ্ছে কেউ জানে না। মানুষ যখন অপরাধের সঙ্গে জড়ায় হয়তো প্রথম কেউ জানে না। কিন্তু একপর্যায়ে তাকে ধরা পড়তেই হবে। কেননা, কখন কে কোন্ অপরাধে ধরা পড়ে তার কোনো ঠিক নেই। আর অপরাধ করলে ধরা তাকে পড়তেই হবে।
শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী এবারের ন্যাম সম্মেলনে তার অভিজ্ঞতার কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
গত ২৫ থেকে ২৬ অক্টোবর উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট- ন্যামের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন শেখ হাসিনা। শুক্রবার সকালে বাকু কংগ্রেস সেন্টারে এ সম্মেলনের উদ্বোধন হয়।
স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা ৫৮ বছরের পুরনো এ জোটের অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলনে ৪০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেন। এ ছাড়া পর্যবেক্ষক ১৭টি দেশ ও ১০ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে ছিলেন।
পেঁয়াজ নিয়ে অস্থির হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। কেন ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ মজুত করছে বুঝতে পারছি না। পেঁয়াজ নিয়ে এত অস্থির হয়ে যাওয়ার কী আছে? আমার বাসায়ও পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হয়।
ক্রিকেটার সাকিবের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আইসিসি সাকিব আল-হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বেশি কিছু করার থাকবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার পাশেই থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওর (সাকিব) সঙ্গে যখন যোগাযোগ করেছিল ও গুরুত্ব দেয়নি, আইসিসিকে জানায়নি। নিয়ম হল সঙ্গে সঙ্গে জানানো। এখন আইসিসি যদি ব্যবস্থা নেয়, খুব বেশি কিছু তো আমাদের করার থাকে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা ভুল সে করেছে এটা ঠিক, এটা সে বুঝতেও পেরেছে। বিসিবি বলেছে তার পাশে তারা থাকবে।
