সিটিনিউজবিডি : চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকায় কোরবানি দেয়া পশুর বর্জ্য অপসারণ হলেও এখনও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী ও পথচারীরা । সরেজমিন পরিদর্শনেও বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে।
তবে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তার দাবি, দুর্গন্ধ না ছড়ানোর জন্য পর্যন্ত পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। চসিকের একার পক্ষে বর্জ্যের দুর্গন্ধ ছড়ানো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব না। এজন্য জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এ কর্মকর্তা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে নগরজুড়ে একযোগে বর্জ্য অপসারণের কাজে নামে চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের প্রায় দুই হাজার কর্মী।
নগরীর ৪১ ওয়ার্ডকে চারভাগে ভাগ করে সার্বক্ষণিক বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নজরদারি করে একাধিক ভিজিল্যান্স টিম। ১১ ওয়ার্ড নিয়ে উত্তর, ১০টি নিয়ে দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম জোনে ১০টি করে মোট ৪১ ওয়ার্ডকে ভাগ করে দামপাড়ায় খোলা হয় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। ৪টি জোনে বিবিরহাট, গোসাইলডাঙ্গা, দেওয়ান বাজার ও সরাইপাড়া ওয়ার্ড কার্যালয়ে ৪টি সাব কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
নগরীতে অতিরিক্ত ৩০টি কন্টেইনার বসানো হয়েছে। এছাড়া বর্জ্য অপসারণে ১৫০টি ট্রাক, ১০টি কন্টেইনার মুভার, ১৫টি ট্রলি, ৫০টি ভ্যানগাড়ি সার্বক্ষনিকভাবে নিয়োজিত রয়েছৈ। এছাড়া পরিচ্ছন্ন কাজের জন্য করপোরেশনের পানির গাড়ি আছে। প্রাণি জবাইয়ের স্থানে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ ডাস্টবিন থেকে কোরবানি দেয়া পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় এখনও কিছু বর্জ্য রয়ে গেছে। এছাড়া যেখানে সেখানে পশু জবাই করার ফলে পশুর রক্ত রয়ে গেছে। পশু কোরবানির স্থানগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে ব্লিচিং পাউডার না দেওয়ার কারণে এখনো দুর্গন্ধ রয়ে গেছে বলে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নগরীর এনায়েতবাজার থেকে বিআরটিসি সড়কে যাওয়ার সময় দেখা যায়, মানুষ নাকে রুমাল দিয়ে হাঁটছে। ডাস্টবিনগুলোতে বেশ কিছু বর্জ্য রয়ে গেছে। ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা ডাস্টবিনগুলো থেকে বর্জ্য অপসারণ করেছে। তারা বিকাল চারটার পর আর না আসায় ডাস্টবিনগুলোতে পুনরায় অনেক আবর্জনা জমা হয়ে গেছে। এগুলো দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ’
লাভলেইন এলাকার বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, ‘কোরবানি দেয়া পশুর বর্জ্যের দুর্গন্ধ বন্ধে যথেষ্ট পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে না। ফলে এলাকা জুড়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ দুর্গন্ধে মানুষজন অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান ছিদ্দিকী বলেন, ‘সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে নগরীর ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্রত্যেক ওয়ার্ডে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আশা করছি রাত দশটার মধ্যে নগরীর সব বর্জ্য অপসারণ হয়ে যাবে।
দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে ১‘শ কেজি করে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। সব দুর্গন্ধ আমাদের একার পক্ষে বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। অনেকে ঘরের পিছনে পশু জবাই করেছে। পশু জবাইয়ের পর তারা সেখানে পর্যপ্ত পানি দেয়নি বা সেখানে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা যাওয়ার সুযোগ নেই। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
প্রতিটি জোনে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকির জন্য একজন কাউন্সিলরকে আহবায়ক করে কমিটি করা হয়েছে। উত্তর জোনের আহবায়ক ৭নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী, দক্ষিণ জোনের আহবায়ক ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ, পূর্ব জোনের আহবায়ক ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী নুরুল হক এবং পশ্চিম জোনের আহবায়ক সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জেসমিনা খানম।
বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নাম্বার ৬৩৩৬৪৯, ৬৩০৭৩৯, ০১৭১২-২৫২৬১৫, ০১৮৪২-১৯৯১৯৯।
উত্তর জোনের অধীনে ১১টি ওয়ার্ড- ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী, ২নং জালালাবাদ, ৩নং পাঁচলাইশ, ৪নং চান্দগাঁও, ৫নং মোহরা, ৬নং পূর্ব ষোলশহর, ৭নং পশ্চিম শোলকবহর, ৮নং শোলকবহর, ১৫নং বাগমনিরাম, ১৬নং চকবাজার ও ২১নং জামালখান ওয়ার্ড।
দক্ষিণ জোনে ১০টি ওয়ার্ড- ২৩নং উত্তর পাঠানটুলী, ২৭নং দক্ষিণ আগ্রাবাদ, ২৮নং পাঠানটুলী, ২৯নং পশ্চিম মাদারবাড়ি, ৩৬নং গোসাইলডাঙ্গা, ৩৭নং হালিশহর মুনির নগর, ৩৮নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ৩৯নং দক্ষিণ হালিশহর, ৪০নং উত্তর পতেঙ্গা ও ৪১নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড।
পূর্ব জোনে ১০টি ওয়ার্ড- ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া, ১৮নং পূর্ব বাকলিয়া, ১৯নং দক্ষিণ বাকলিয়া, ২০নং দেওয়ান বাজার, ৩০নং পূর্ব মাদারবাড়ি, ৩১নং আলকরণ, ৩২নং আন্দরকিল্লা, ৩৩নং ফিরিঙ্গী বাজার, ৩৪নং পাথরঘাটা ও ৩৫নং বক্সিরহাট ওয়ার্ড।
পশ্চিম জোনে ১০টি ওয়ার্ড- ৯নং উত্তর পাহাড়তলী, ১০নং উত্তর কাট্টলী, ১১নং দক্ষিণ কাট্টলী, ১২নং সরাইপাড়া, ১৩নং পাহাড়তলী, ১৪নং লালখান বাজার, ২২নং এনায়েত বাজার, ২৪নং উত্তর আগ্রাবাদ, ২৫নং রামপুর ও ২৬নং উত্তর হালিশহর ওয়ার্ড।
