চট্টগ্রামে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের ‘সোশ্যাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান

0

মানবিক ও সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘সোশ্যাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের আয়োজনে গত ১১ এপ্রিল (শনিবার) বিকেল ৫টায় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) আবু নাছের মোহাম্মদ ইলিয়াস। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ।

সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবালের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সফিকুর রহমান স্বপন, ব্যারিস্টার সওগাতুল আনোয়ার খান, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় পরিচালক ইকবাল হোসেন এবং লায়ন আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান এমজেএফ।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন নাসরিন ইসলাম ও আবছার উদ্দিন অলি।

এ বছর জুরি বোর্ডের বিশেষ মনোনয়নে সামাজিক ও পরিবেশবাদী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি সংগঠন এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে ৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘সোশ্যাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন জুরি বোর্ডের সদস্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বেগম রোকিয়া পদক প্রাপ্ত বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া বেলা, চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার প্রফেসর মো. ইফতেখার মনির, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট কামাল পারভেজ, এড. এনামুল হক, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক নেছার আহমেদ খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল (অব.) আবু নাছের মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, “মানবাধিকার রক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়ন কেবল কোনো একক সংগঠনের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের নাগরিক দায়িত্ব। যারা আজ পুরস্কৃত হয়েছেন, তারা সমাজের অন্ধকার দূর করার আলোকবর্তিকা। আপনাদের এই নিঃস্বার্থ কাজ আগামী প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে অনুপ্রাণিত করবে।”

প্রধান বক্তা পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পুলিশ এবং সাধারণ মানুষ যখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামাজিক অসংগতির বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন সমাজ থেকে অপরাধ ও অন্যায় বিদায় নেয়। আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করে যে, ভালো কাজের মূল্যায়ন সবসময় আছে। এই সম্মাননা আপনাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সফিকুর রহমান স্বপন বলেন, “রাজনীতি ও সমাজসেবা একে অপরের পরিপূরক। আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসি, তবেই দেশে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

এছাড়াও ব্যারিস্টার সওগাতুল আনোয়ার খান এবং ইকবাল হোসেন তাদের বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষা এবং আইনি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, একটি সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর ভূমিকা অপরিসীম।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.