চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি আড়তদারদের

0

সিটিনিউজবিডি : চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি চট্টগ্রামের আড়তদাররা। এজন্য পশু কোরবানি কম হওয়ায় এবং চামড়ার মূল্য কম নির্ধারণ করাকে দায়ী করেছেন আড়তদাররা।

এছাড়া মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে চামড়া কেনার কারণে লোকসানে পড়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

এবার ঈদুল আযহায় চট্টগ্রামে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে পাঁচ লাখ। এর মধ্যে গরুর চামড়া সাড়ে চার লাখ, ছাগল ৯০ হাজার এবং মহিষ দশ হাজার। কিন্তু শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টা পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহ করেছে আড়তদাররা। তবে আগামী দুই একদিন আরো কিছু চামড়া সংগ্রহ হতে পারে বলে জানিয়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো.সেকান্দর বলেন, ‘কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত গরু, মহিষ ও ছাগল মিলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। গরুর দাম বেশি থাকায় এবং গরুর সংকটের কারণে অনেকে কোরবানি দেননি। আবার কয়েকজন মিলে কোরবানির পশু জবাই করেছে। তাই এবার পশুও কম কোরবানি হয়েছে।

আগামী দুই একদিন আরো কিছু চামড়া সংগ্রহ হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।

আবার অনেক আড়তদার চামড়া পাচার হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন। শাহ আমানত আড়তের মালিক তৈয়ব সওদাগর বলেন, ‘একটি চক্র মৌসুমী ব্যবসায়ীদের হাত করে চড়া মূল্যে চামড়া সংগ্রহ করেছে। এর ফলে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করে নিজেরাই লবণ দিয়ে মজুদ করছে। মজুদকৃত এসব চামড়া ভারতে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এ ব্যবসায়ী।

এবার চামড়া ব্যবসায়ীদের তিন সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাইড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। ট্যানারি ব্যবসায়ীরা রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া কিনবেন ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। ঢাকার বাইরে এ দাম হবে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।

সারা দেশে খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২০ থেকে ২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকায় সংগ্রহ করা হবে।

নগরীর আতুরার ডিপো এলাকার বিভিন্ন চামড়া আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে তারা চামড়া কিনতে পারেননি। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কারণে চড়া দামে চামড়া কিনতে হয়েছে। শ্রমিকদের খরচ, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাত মিলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া চট্টগ্রামে কোন ট্যানারি না থাকায় ঢাকার ব্যবসায়ীদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। ঢাকার ব্যবসায়ীরা অর্ধেক টাকা দিয়ে চামড়া সংগ্রহ করে। বাকি টাকা সংগ্রহে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সংগ্রহকৃত চামড়ায় লবণ দিয়ে মজুদ করছেন শ্রমিকরা। অনেক আড়তে চামড়ার সংগ্রহ কম থাকায় অলস দিন কাটাচ্ছে শ্রমিকরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারিগুলো যদি সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চামড়া না কিনে তবে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে তাদের।

নূরে মদিনা লেদারের মালিক শরিফুল মুনির বলেন, ‘চট্টগ্রামে এবার কোরবানির পশু কম জবাই হয়েছে। ভারতীয় গরু কম আসায় বড় চামড়ার সংগ্রহ কম। এছাড়া মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনায় আমাদেরকেও বেশি দামে চামড়া কিনতে হয়েছে। ১২শ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০টাকা দামে চামড়া কিনতে হয়েছে। যেগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া চামড়ার সংখ্যাও কম। এখন ট্যানারি মালিকদের দিকে তাকিয়ে আছি। ’

গত বছর ১০ হাজার চামড়া সংগ্রহ করলেও এবার ওয়াসিম ট্রের্ডাস সংগ্রহ করেছেন মাত্র ৭ হাজার। চামড়ার সাইজও বড় নয়। আড়তদার মো.ওয়াসিম বলেন, গত বছর এ সময়ে চামড়া সংগ্রহের ব্যস্ততা ছিল লক্ষণীয়। কিন্তু এ বছর শ্রমিকরা অলস দিন কাটাচ্ছে।

সংগ্রহকৃত চামড়াগুলোর গড় দাম প্রায় ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা পড়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে চট্টগ্রামের আড়তদাররা চামড়া সংগ্রহ করলেও সেগুলো চলে যাবে ঢাকার হাজারিবাগ ট্যানারি ও পোস্তারপাড় আড়তে। কারণ চট্টগ্রামে কোন ট্যানারি চালু নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, পাকিস্তান আমলে চট্টগ্রামে ১৯টি ট্যানারি গড়ে উঠে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে গড়ে উঠে তিনটি। এসব ট্যানারিতে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ করে বিদেশে রপ্তানি করা হতো। ২২টি ট্যানারির মধ্যে চট্টগ্রামে বর্তমানে চালু ছিল মাত্র ২টি ট্যানারি। চলতি বছরের মে মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ইটিপি না থাকায় নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার বটতল এলাকায় মদিনা ট্যানারি এবং চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট এলাকায় টি কে গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রিফ লেদার লিমিটেড বন্ধ করে দেয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.