খাল দখল, অবৈধ স্থাপনা তৈরি ও চসিকের বিদ্যুৎ চোররা গণশত্রুঃ সুজন

0

সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, নগর সেবায় ক্যারাভান একটি সামাজিক আন্দোলন। এ আন্দোলনের সূত্র ধরে আমি সামাজিক মঙ্গল চাই। তাই নগরবাসীর প্রতি আহবান থাকবে এ আন্দোলনে শরীক হোন। আমি যে এলাকাগুলোতে যাচ্ছি, সেখানে সমস্যার সূত্রগুলোকে নির্মূল করার চেষ্টা করছি। যাতে পরের দিনই সে সমস্যাগুলো আবার তৈরি না হয়। আমি প্রশাসন এবং জনসাধারনকে অনুরোধ জানাবো আমার এ উদ্যোগে সারথী হোন।

প্রশাসক বলেন, পানি নিষ্কাশনের মূল প্রণালী খালগুলো দখল করেছে, সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছে, অবৈধ দোকানপাট বসিয়েছে এমনকি কর্পোরেশনের লাইন থেকে বিদ্যুৎও চুরি করছে তারা গণশত্রু। তাদেরকে গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছি এবং এদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন করার আহবান জানাই।

আজ বুধবার বিকেলে তিনি চকবাজার ধুনিরপুল হতে রাহাত্তারপুল পর্যন্ত চসিক এর প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত টিম নিয়ে নগর সেবায় ক্যারাভান কার্যক্রমে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা ক্যারাভান কর্মসূচীটিকে নগরীর মূল সড়কগুলোর পাশাপশি এলাকার অলিগলিতে বিস্তৃত করেছি যাতে নগরীর সব এলাকার জনগনকে এ কর্মসূচীর আওতায় নিয়ে আসতে পারি। আপনারা জানেন এই এলাকাটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ঘিঞ্জি এলাকা। এখানে জলাবদ্ধতার সংকট রয়েছে যার কাজও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ভূমি দস্যুদেরও উৎপাত রয়েছে। যারা পানি নিষ্কাশনের মূল প্রণালী খালগুলো দখল করেছে, সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছে, অবৈধ দোকানপাট বসিয়েছে এমনকি কর্পোরেশনের লাইন থেকে বিদ্যুৎও চুরি করছে। তাদেরকে গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছি এবং এদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন করার আহবান জানাই।

তিনি বলেন, ধর্ষণ একটি জঘণ্যতম অপরাধ। দল, মত নির্বিশেষে এই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করার বিধান মন্ত্রীসভায় অনুমোদন করার পর অধ্যাদেশও জারি হয়েছে। আমাদের সমাজে ধর্ষকরা বিভিন্ন মুখোশে লুকিয়ে আছে। তাদের আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে সামাজিক ভাবে প্রতিহত করতে হবে।

ধনিয়াপুল এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে প্রশাসক বলেন, এ ধনিয়াপুল বাজারে কোন গণশৌচাগার নাই। তাই বাজারের ক্রেতা বিক্রেতাদের জন্য একটি গণশৌচাগার স্থাপনেরও আশ্বাস দেন তিনি। কে বি আমান আলী রোড সংস্কার করায় এলাকাবাসী প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান। এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে জনসাধারণ প্রশাসককে বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা অবহিত করেন এবং ক্যারাভান কর্মসূচীর ভূঁয়সী প্রশংসা করেন।

প্রশাসক উপস্থিত জনসাধারনকে নিয়মিত পৌরকর পরিশোধের অনুরোধ জানালে নাগরিকগন দুই হাত তুলে পৌরকর পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। এছাড়া প্রশাসক রাহাত্তারপুল এলাকায় একটি কাঠের মিলের অবৈধ কাঠ, গাছের গুড়ি নালা ও ফুটপাতের উপর রাখায় তা তাৎক্ষণিক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তাছাড়া মুরাদপুর এলাকায়ও নালার উপর দখল করে রাখা বিভিন্ন স্থাপনা, সম্ভাব্য আগামী রবিবারের মধ্যে অপসারনের নির্দেশ দেন। অন্যথায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানসহ মালামাল জব্দ করা হবে।

এ সময় প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সাবেক কাউন্সিলর মো. সাইফুদ্দিন, নিজাম উদ্দিন নিঝু, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম, মো. নাজিম উদ্দিন, নোমান চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে প্রশাসক শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে গুনগত মান ঠিক রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগাদা দেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.