নগরীতে প্রতারণা করে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎঃ টাকাসহ কর্মচারী আটক
সিটি নিউজঃ নগরে প্রতারণা করে মোঃ জিয়াউল হক নামে এক গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ব্যবসায়ীর ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা সুকৌশলে আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দেয় কর্মচারী আবু তৈয়ব (২৫)।
আজ রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়াস্থ তার আত্মীয়ের বাড়ী থেকে ৭ লাখ ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এর আগে গতকাল রবিবার আসামী আবু তৈয়বকে কোতোয়ালী পুলিশ গ্রেফতার করে।
কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, মোঃ জিয়াউল হক গার্মেন্টস এক্সেসরিজের ব্যবসা করেন। জুবিলী রোডস্থ মিউনিসিপ্যাল হকার মার্কেট এর শাহ আকতারিয়া ষ্টোর নামক দোকানের মালিক তিনি। গত ২ ডিসেম্বর দোকানের মালামাল ক্রয়ের জন্য ঢাকা সদরঘাট এলাকায় যান। তার ব্যবসায়িক কারনে টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি একইদিন বেলা অনুমান পৌনে ১টার সময় তার দোকানের কর্মচারী আবু তৈয়বকে মোবাইলে দোকানে থাকা নগদ ১ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক বন্ধু বান্ধবের নিকট হতে ৯,৩৯,৯০০/- টাকা সংগ্রহ করে সর্বমোট ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৯শ টাকা সাউথ ইস্ট ব্যাংক, জুবিলী রোড শাখায় মেসার্স শাহ আকতারিয়া ষ্টোর নামীয় ব্যাংক হিসাব নং-০০১১১০০০৩০১৫৩ তে জমা করার জন্য বলেন। তৈয়ব বসায়িক বন্ধু বান্ধবের নিকট হতে ৯,৩৯,৯০০/- টাকা সংগ্রহ করে ঢাকায় না পাঠিয়ে টাকাসহ গা ঢাকা দেয়।
জিয়াউল হক টাকা না পেয়ে তার কর্মচারীর মোবাইলে ফোন দিলে বন্ধ পান। একই দিন তিনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চলে আসেন। রাত ৯ টা পর্যন্ত তৈয়বকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে কোতোয়ালী থানাধীন জুবিলী রোডস্থ মিউনিসিপ্যাল হকার মার্কেট এর শাহ আকতারিয়া ষ্টোর নামক দোকানে এসে তৈয়বকে ফোন দিলে সে বলে ঐদিন টাকা নিয়ে লালদিঘীর পাড় গেলে ছিনতাইকারীরা টাকা ছিনিয়ে নেয়। এবং অসংলগ্ন কথা বার্তা বলেন।
গতকাল রবিবার রাত ৯ টার সময় আসামীকে কোতোয়ালী থানাধীন ষ্টেশন রোডে দেখতে পেয়ে থানায় সংবাদ দিলে এসআই সুকান্ত চৌধুরী অফিসার ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়া বাদীর কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে আসামীকে কৌশলে আটক করে।
ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা স্বীকার করে এবং আত্মসাৎকৃত টাকা বাঁশখালী থানাধীন ছনুয়া বাজার এলাকায় রেখেছে বলে জানায়। ধৃত আসামীর দেওয়া তথ্যমতে এসআই সুকান্ত চৌধুরী আজ সোমবার (৭ ডিসেম্বর) আড়াইটার সময় বাঁশখালী থানাধীন ছনুয়া নয়াপাড়া মকবুল সওদাগরের বাড়িস্থ জনৈক রাবেয়া বেগমের বসতঘর হতে আসামীর দেখানো মতে আত্মসাৎকৃত ৭,৩৯,০০০/- টাকা উদ্ধার করেন। মোঃ জিয়াউল হক আবু তৈয়বকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মোঃ জিয়াউল হক বলেন, আসামী দীর্ঘ ৭/৮ বছর যাবত তার দোকানে চাকুরি করত। তাকে প্রায় সময়ই তাহার ব্যবসায়িক লেনদেনের কাজ করাইত। সে সুবাদে আসামী ব্যবসায়িক লেনদেন করতে করতে লোভের বশবর্তী হয়ে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করে পলাতক হওয়ার চেষ্টা করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম ও ঠিকানাঃ আবু তৈয়ব (২৫), পিতা-আব্দুস সালাম, মাতা-সিরাজ খাতুন, সাং-চেয়ারম্যান বাড়ি, মাদার্শা, ৫নং ওয়ার্ড, ডাক-দেওদীঘি, থানা-সাতকানিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম কর্মক্ষেত্রের ঠিকানা-৯৭নং শাহ আকতারিয়া ষ্টোর, মিউনিসিপ্যাল হকার মার্কেট, জুবিলী রোড, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম।
