সিটিনিউজবিডি : নানা আলোচনা সমালোচনার পর চালু হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল(এনসিটি)। শনিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
টার্মিনালের পাঁচটি জেটির মধ্যে একটি বন্দরের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বাকি চারটি জেটি পরিচালনার জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহুল আলোচিত এই টার্মিনালে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ শুরু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে। এতে বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি বাড়বে প্রবৃদ্ধি।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে এনসিটি’র ২নম্বর জেটিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্ব করবেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমীন, বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এনসিটি নির্মাণ শুরু হয় ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হয়। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের খরচ হয় ৪৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পরে দুটি জেটির পেছনের কনটেইনার রাখার চত্বর তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় ৯৮ লাখ টাকা।
বেসরকারি অপারেটর যন্ত্রপাতি কিনে টার্মিনাল পরিচালনা করবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর বন্দরকে হস্তান্তর করবে(এসওটি) এই নীতিতে টার্মিনালটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০০৭ সালে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সব কাজ গুছিয়ে আনা হয়।
২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বখ্যাত চারটি প্রতিষ্ঠানকে (হাচিসন পোর্ট ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ডিপি ওয়ার্ল্ড, এপিএম টার্মিনালস এবং ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনার সার্ভিসেস) দরপত্রে অংশ নেওয়ার যোগ্য নির্বাচিত করা হয়।
২০০৯ সালের নভেম্বরে দরপত্র জমা দেওয়ার সময়ও নির্ধারণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে তৎকালীন সংসদীয় কমিটি এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সভায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতে এই দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ দরপত্র বাতিল করে। এরপর দেশীয় সাইফ পাওয়ারটেক ও বিদেশি পিএসএ ইউরোপ নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রে অংশ নেওয়ার যোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
মামলা পাল্টা মামলায় দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর দুইভাগে চারটি জেটি পরিচালনায় অপারেটর নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরমধ্যে দুইটি যৌথভাবে ও দুটি এককভাবে পরিচালনার জন্য যোগ্য বিবেচিত হয় সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড।
