সিটি নিউজ ডেস্ক : অভ্যন্তরীণ রুটে সীমিত পরিসরে ফের চালু হচ্ছে ফ্লাইট। কক্সবাজার ছাড়া অন্য অভ্যন্তরীণ রুটে আগামীকাল বুধবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফ্লাইট চলাচল শুরু হচ্ছে। বিমানবন্দরে সামাজিক দূরত্ব বাজায় রাখার পাশাপাশি কেবিন ক্রু ও যাত্রীদের মাস্ক, গ্লাভস, ফেসশিল্ড পরতে হবে। এ ছাড়া উড়োজাহাজের পেছনের এক সারি সিট খালি লাখতে হবে।
আজ মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী জিয়া উল কবির স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। তবে রাতে সার্কুলার জারি করে সকালে যাত্রীদের ‘কঠোর লকডাউন’ মধ্যে বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদিও দেশের বিমান সংস্থাগুলো বেবিচকের ‘গ্রীন সিগনাল’ পেয়ে আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
তারা বলছে, বেবিচকের নিদের্শনা মেনে ফ্লাইট চালু করতে তাদের কোন অসুবিধা হবে না। যদিও সর্বাত্মক লকডাউনের মেয়াদ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সোমবার অপর এক আদেশে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে। তবে এই সময় প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট এবং অনুমতি নিয়ে কার্গো উড়োজাহাজ, বিশেষ বা চাটার্ড ফ্লাইট, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে পারবে। একইসঙ্গে প্রবাসীদের আনা-নেয়ার জন্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাতার ও ওমানে বিশেষ ফ্লাইটগুলো আগের মতোই চলবে বলেও জানানো হয়।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। একইসঙ্গে পূর্নদ্দোমে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। ফলে সবগুলো গন্তব্যে সক্ষমতার চেয়ে কম কম যাত্রী পরিবহন করতে হবে বিমান সংস্থাগুলোকে।
এর আগে, ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বেবিচক। ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর আবার ফ্লাইট চালু হচ্ছে। এতে দেশের বিমান সংস্থাগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
জানতে চাইলে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, বুধবার থেকে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হচ্ছে। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন করা হবে। বিমান সংস্থাগুলো আপাতত তিন ভাগের এক ভাগ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। পাঁচটি আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীরাও এসব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পারবে।
এতো কম সময়ের ব্যবধানে ফ্লাইট চালু করে যাত্রীদের জানতে এবং বিমানবন্দরে পৌঁছতে অসুবিধা হবে কি না জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ফ্লাইট চালুর সুযোগ করে দিচ্ছি। এখন এয়ারলাইনগুলো যাত্রীদের জানাবে। হয়তো বুধবার থেকে সবাই ফ্লাইট চালু করবে না, আর করলেও কেউ কেউ হয়তো দুপরের পর চালু করবে।
জানতে চাইলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নভো এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা মৌখিকভাবে জেনেছি, লিখিত নিদের্শনা হয়তো পেয়ে যাব। আমাদের সিডিউলের তিনভাগের এক ভাগ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারব। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধিসহ অন্যান্য নিয়মকানুন আগের মতোই থাকবে বলে জেনেছি। ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে আমরা প্রস্তুত আছি।
লকডাউনের ভেতরে যাত্রীরা কিভাবে বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়া ও গন্তব্যে পৌঁছবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আন অফিসিয়ালি তো মানুষের চলাফেরা চলছে। তাছাড়া বিমানযাত্রীদের ছাড় দেওয়ার কথা।
করোনার প্রথম ঢেউয়ে গত বছর ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটিতে টানা ফ্লাইট বন্ধ ছিল। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এয়ারলাইনসগুলো। গত ১৬ দিনের বন্ধে সেই ক্ষতি আরো বাড়ল বলে জানালেন বেসরকারি ইউএস-বাংলা এডারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশনস) মো. কামরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার তিনি বলেন, ১৬ দিনের লকডাউনে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমরা জিরো রেভিনিউ নিয়ে এই ১৬ দিন পার করলাম।
ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাত্রীরা অনলাইনের মাধ্যমে জেনে যাবে। অনেক টিকেট যাত্রীরা আগেই কিনে রেখেছেন। তারা হয়তো রিশিডিউল করে নেবেন। প্রথম দিন হয়তো কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। আমরা ফ্লাইট শুরু করে দেব।
সিটি নিউজ / এসআরএস
